যে বাবার স্নেহ-ভালোবাসার ছায়ায় একটি মেয়ে নিজেকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে, সেই বাবার বিরুদ্ধেই এবার উঠেছে নির্মমতার অভিযোগ। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের মেয়েকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছাঃ জেরিন খাতুন সন্ধ্যার দিকে তার শ্বশুরবাড়িতে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত বাবা জিল্লুর রহমান পেছন থেকে এসে তার মুখ চেপে ধরেন। এরপর তাকে জোরপূর্বক বাড়ির পেছনের দিকে ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় জেরিন চিৎকার শুরু করলে তাকে পাশের একটি পুকুরে নিয়ে গিয়ে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে জেরিন অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার চিৎকার শুনে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত জেরিন খাতুন বলেন, আমি পানি আনতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বাবা এসে মুখ চেপে ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। আমি চিৎকার করলে আমাকে পুকুরে নিয়ে চুবায়া ধরে। এরপর কী হয়েছে, কিছুই মনে নেই।
জেরিনের শাশুড়ি জানান, পুত্রবধুর চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি পুকুরে তাকে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। পরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
জেরিনের স্বামী জনি বলেন, “আমরা সম্পর্ক করে বিয়ে করেছি। এ নিয়ে আগে বিরোধ ছিল। আজকের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।
তবে অভিযুক্ত বাবা জিল্লুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করিনি। তাকে হাত ধরে আনতে গিয়ে ধানক্ষেতে পিছলে পড়ে যাই। আমাকে মিথ্যা ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দোষীর দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
Posted ১০:০৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
Alokito Bogura | Editor & Publisher