বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার মাস্টারপাড়া থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন সড়কের কাজ চাঁদাবাজির অভিযোগে থমকে গেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ মাস পার হলেও এখনো শুরুই হয়নি সড়কের বেড প্রস্তুত ও ইউনিব্লক বসানোর মূল কাজ। এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
দীর্ঘদিনের জনদাবির প্রেক্ষিতে যান ও জনচলাচলের জন্য অনুপযোগী পুরোনো ফ্ল্যাট সোলিং সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সোনাতলা পৌরসভা। ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’ এর আওতায় মাস্টারপাড়া আরসিসি সড়ক থেকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশে প্রায় ৮৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ২ মে এর মধ্যে ইউনিব্লকের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে সময়ের অধিকাংশই পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সড়কটির বেড তৈরি ও ইউনিব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়নি।
এ পর্যন্ত সড়কের পুরোনো ইট অপসারণ, তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ এবং দুটি দিঘীর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং ইট তুলে নেওয়ায় সড়কটি আরও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ কারণে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, স্থানীয়দের চলাচল এবং বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাতলা পৌরসভার প্রকৌশলী শাহীন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। একইসাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ সময় বালু পরিবহনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বালু সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে সড়ক নির্মাণ কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী সালেক উদ্দিন বলেন, “আমরা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইউনিব্লকও প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু সড়কে বালু ফেলানোর সময় কিছু লোক চাঁদা দাবি করায় কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
তবে এ বিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধ করে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
Posted ৭:২১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
Alokito Bogura | Editor & Publisher