আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিজ জেলা বগুড়ায় দলের হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে ব্যাপক তৎপর বিএনপি।
২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলায় সংসদীয় সাতটি আসনের মধ্যে দুটি হাতছাড়ার মাধ্যমে দলের দুর্গ নড়বড় হয়ে যায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পাঁচটি আসনই হাতছাড়া হয়। সামনের নির্বাচনে সব কটি আসন নিজেদের কাছে রাখতে তৎপর দলটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পর দলে পুরোদমে নির্বাচনী হাওয়া লেগেছে। সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ প্রতিদিনই বিভিন্ন সংসদীয় আসনে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালন করছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
জেলার একাধিক আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নেতাকর্মীরা প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। নেতাকর্মীরা এও মনে করছেন, তাঁরা কোনো কারণে প্রার্থী না হলে দলীয় কৌশলগত কারণে এখানে প্রার্থী হতে পারেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান।
বগুড়া-১: এ আসনটি সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন—সাবেক এমপি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেন চৌধুরী, বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুন নবী সালাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম টিটু, মনি পঞ্চায়েত গ্রুপের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম রিপন, কর্নেল (অব.) জগলুল আহসান, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রবিউল হোসেন রবি, সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান হিরু, জেলা ড্যাব নেতা ডা. শাহ্ মো. শাহজাহান আলী।
বগুড়া-২: এ আসনটি শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে বাবা-ছেলেসহ মাঠে রয়েছেন সাত জন। তারা হলেন—বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক এসাইনমেন্ট অফিসার ডা. ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মীর শাহে আলম, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এ কে এম হাফিজুর রহমান, তাঁর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপি নেতা ডা. গোলাম হাসনাইন সোহান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক শিবগঞ্জ পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান মতি।
বগুড়া-৩: এ আসনটি আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন—বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মহিত, বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, বগুড়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ ও ইসলামী টাজিস্ট গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারি তালুকদার বেলাল, জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান খান মুক্তা, বগুড়া জেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক লায়ন ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, সান্তাহার পৌর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভোট্টু।
বগুড়া-৪: এ আসনটি কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মাঠে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নন্ন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সদস্য ফজলে রাব্বী তোহা।
বগুড়া-৫: এ আসনটি শেরপুর—ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে বাবা-ছেলেসহ সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা সাত জন। তারা হলেন—জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, তাঁর ছেলে শেরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও তরুণ শিল্পপতি আসিফ সিরাজ রব্বানী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ধুনট উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম তৌহিদুল আলম মামুন, শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র জানে আলম খোকা, পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।
বগুড়া-৬: এ আসনটি বগুড়া সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন বিএনপির দখলে ছিল। এর মধ্যে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারবার সংসদ সদস্য হন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান বা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন।
বগুড়া-৭: এ আসনটি গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি গাবতলী উপজেলায়। এই আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চাইছেন।
জেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, এই আসনে তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়াও তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান বা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানও প্রার্থী হতে পারেন।
বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের আমলনামা যাচাই-বাছাই করা হবে। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান, দলের পেছনে কতটা সময় দিয়েছেন-এলাকায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে- এমন প্রার্থীদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এম.টি.আই/আ/ব
Posted ২:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher