বগুড়ার সদরের চকসরতাজ সুলতানপুর পশ্চিম পাড়ায় অনলাইনে জুয়ার পাওনা টাকার দ্বন্দ্বে ডেকে নিয়ে রাসেল আহমেদ নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত রাসেল ওই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে ও বগুড়া ডায়াবেটিস হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ দিকে এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সিয়াম নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট বুধবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাসেল মিয়া নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় একই এলাকার এক ছেলে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে তাকে বাইরে ডাকেন। রাসেল মিয়া গেট খুলে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল মিয়া বাড়ির আঙিনায় লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত রাসেল ও ওই যুবকের মধ্যে অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনার জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহতের পরিবার বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর সদর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ওই যুবককে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ফাঁকা জমি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাসেল মিয়া ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের একজন যুবক ছিলেন। তারা এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে হতবাক ও ক্ষুব্ধ। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার আইনে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি এলাকায় অনলাইন জুয়া ও সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা মামলা রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করি। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই যুবককে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।
Posted ১০:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher