জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে বগুড়া রাজনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। বগুড়ার নাম শুনলেই চাকরি বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হতো। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়ে শহরের থানা মোড় হয়ে মুক্তমঞ্চে এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই বগুড়া একসময় বঙ্গ সভ্যতার সূতিকাগার ছিল, মহাস্থানগড় থেকে সেই সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আমরা সেই হারানো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন, “বগুড়া সিটি করপোরেশনের আশপাশে চরম নাগরিক দুর্ভোগ বিরাজ করছে। শহরজুড়ে অপরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ চলছে।”
তিনি দাবি করেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে বগুড়ায় ডিসি ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি হয়েছে। সেই নির্বাচন পরিচালনায় জড়িতদের পরিণতি ভয়ংকর হয়েছে। এবার সেই পুরনো দলবাজ প্রশাসন, পুলিশ, আদালতের কোনো স্থান এই বগুড়ায় থাকবে না। আমরা নিরপেক্ষ প্রশাসন, পুলিশ এবং আদালত চাই।”
তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আহতদের সঠিক চিকিৎসা হয়নি, শহীদ পরিবাররা অবহেলিত। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সহায়তা দিতে হবে।”
‘জুলাই সনদ’ সংবিধানে যুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই আমাদের আবেগ নয়, এটি আমাদের রাজনৈতিক গন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা। আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নতুন বাংলাদেশের সূচনা ঘোষণা দেওয়া হবে। মুজিববাদীদের দোসরদের আমরা আর স্থান দিব না। বাংলাদেশের রাজনীতি আর বিদেশী ইশারায় চলবে না, চলবে জনগণের দ্বারা।”
পদযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসাইন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
Posted ১০:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৫ জুলাই ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher