শনিবার ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শূন্য থেকে যেভাবে অঢেল সম্পদের মালিক যুবলীগ নেতা লিটন

আলোকিত বগুড়া ডেস্ক   শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
261 বার পঠিত
শূন্য থেকে যেভাবে অঢেল সম্পদের মালিক যুবলীগ নেতা লিটন

আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুবাদে জেলা যুবলীগ সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভোট ডাকাতি করে) এবং দলীয় প্রভাবে দুই দফা বিআরটিসির পরিচালক হয়ে অবৈধভাবে তিনি নামে-বেনামে সম্পদ করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অসংখ্য মামলা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর লিটন কলকাতায় চলে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বগুড়া পৌরসভার সাবেক এক মেয়র জানান, লিটনের বাবা নরেশ পোদ্দার পৌরসভার খাজনা সংগ্রাহক ছিলেন। আশির দশকে পৌরসভার মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তিনি আর দেশে ফেরেননি। লিটন এক সময় আত্মীয়-স্বজনের দয়ায় চললেও শহরের মধ্য কাটনারপাড়া রুহিনী পোদ্দার লেনে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন লিটন। শুধু বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হয়ে তিনি পাঁচ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন। কলেজ ছাড়াও বোবা স্কুলসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন লিটন। লিটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগী আবদুল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।


জানা গেছে, বগুড়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের মাধ্যমে লিটনের রাজনীতি শুরু। ২০০৫ সালে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ২০১৬ সালে জেলা যুবলীগের সভাপতি হন। দীর্ঘদিন তিনি এক ছাত্রলীগ নেত্রীর বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি বগুড়া বিআরটিসির পরিচালক হন। এ পদে তিনি পর পর দুবার ছিলেন। ২০১৬ সালে পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে তার হাতে খড়ি। এ বছর মহিলা কাউন্সিলর পদে মাদক ব্যবসায়ী এক যুবলীগ নেতার আত্মীয় ও বিএনপি নেত্রীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি জয়ী করেন। নিজ দলের প্রার্থীকে হারাতে বোরকা পরে লিটন ভোট ডাকাতি করেন।

২০২৪ সালে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লিটন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অভিযোগ, তৎকালীন পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে (পলাতক) লিটন দুই কোটি টাকা ঘুস দেন। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও টাকার বিনিময়ে লিটনকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। এ ব্যাপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রশাসনে নালিশ করেও প্রতিকার পাননি।


২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হলফনামায় লিটন তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২০ লাখ ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা। তবে স্থানীয়দের দাবি, শূন্য থেকে শুরু করা লিটন গত কয়েক বছরে অবৈধভাবে শতাধিক কোটির টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ভারতেও তার একাধিক বাড়ি আছে। অনেক টাকা তিনি পাচারও করেছেন। নামে-বেনামে হাউজিং ও অন্যসব ব্যবসা রয়েছে লিটনের। শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় বিলাসবহুল বহুতল মার্কেট গড়েছেন। বিভিন্ন মার্কেটে দোকান ও অকৃষি জমির মালিকও তিনি হয়েছেন। ক্ষমতার দাপটে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন। তবে অজ্ঞাত কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) লিটনের সম্পদ ও সম্পত্তির হিসাব নেয়নি।

সুত্র-যুগান্তর


Facebook Comments Box

Posted ৩:১৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!