আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের প্রীতি সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
আজ শনিবার দুপুরে শহীদ টিটু মিলনায়তনে এই প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাচিয়া) আসনে নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানীকে।
জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হবে না। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, যারা জামায়াত-শিবিরের দিকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। এই দেশ কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দেশের মানুষ যাকে চাইবে, তারাই দেশ পরিচালনা করবে।
সরকার ও বিরোধী দলের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা মূলত শেখ হাসিনার দুঃশাসনকেই ফিরিয়ে আনতে চায়। যারা নেত্রীর বাড়ির সামনে থেকে বালুর ট্রাক সরাতে সাহস পায়নি, তারাই এখন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছে। সরকারের ভেতরে-বাইরে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। পলাতক নেত্রীর কথায় উঁকি-ঝুঁকি মারলেও লাভ হবে না। শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দেশে ফিরবেন শুধু ফাঁসির আসামি হিসেবেই।
অনুষ্ঠান শেষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক বিশাল র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাত্রশিবিরের আড়াই হাজারেরও বেশি সাবেক নেতাকর্মী অংশ নেন। এরপর দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়, যা সমাবেশে নতুন মাত্রা যোগ করে।
Posted ৩:৪২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher