বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিয়ামুল কবির’র পদত্যাগের দাবিতে ২ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) স্কুল মাঠে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় প্রায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকার্যক্রম ত্যাগ করে স্কুল মাঠে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করার জন্য স্কুল মাঠে দাঁড়ালে পাকুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া দফায় দাফায় ছাত্রদের উপর হামলা ও ছাত্রীদের লাঞ্চিত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বহিরাগতদের বাধাকে উপেক্ষা করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মিছিল করতে থাকে । এক পর্যায়ে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওসি মিলাদুন নবী পৃথক পৃথক ভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে পৃথক মতবিনিময় সভা করেছেন ।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, জোর করে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে প্রধান শিক্ষক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা বাধা দিলে তাদের উপরেও হামলা করে প্রধান শিক্ষকের সন্ত্রাসী বাহিনী।
পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মো. নিয়ামুল কবির। শিক্ষকতার পাশাপাশি স্কুল পরিচালনা করা যার দায়িত্ব। কিন্তু তিনিই কিনা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায়। অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম ধরে রেখেছিল। কিন্তু সেই সুনামে ভাটা পরতে শুরু করে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক মো. নিয়ামুল কবিরের প্রবেশের পর। প্রায় ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতেই শিক্ষার মান নেমেছে তলানিতে।
বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ লোপাট থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের গাছ গোপনে কেটে বিক্রি করা ও প্রতিষ্ঠানের ঘর দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৩০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে বহাল থেকে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা এই প্রধান শিক্ষকের আশির্বাদ পুষ্ট। বিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস না নিয়েও বেতন তোলেন ঝামেলা ছাড়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কথা শিকার করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আগে অনেক ভালো ছিল। প্রধান শিক্ষক মোঃ নিয়ামুল কবির যুক্ত হবার পর থেকে নানান রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু হয়। শুধু প্রধান শিক্ষক নন তার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক সামছুন নাহারও রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় হাজিরা খাতায় বেশির ভাগ সময় দেখা যায় অনুপস্থিত। আবার সময় মতো স্কুলে আসেন না। মাঝে মাঝে ১১টায় স্কুলে এসে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই স্কুল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ নজমুল ইসলাম মুঠোফোনে আলোকিত বগুড়াকে জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আমি ডিও স্যার এর সাথে বিদ্যালয়ে আসছি বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
Posted ১:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher