বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর রিপন মিঞা’র বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন পিয়ারা বেগম নামের এক ভুক্তভোগী।
অভিযোগে শিবগঞ্জ থানাধীন জীবনপুর চকপাড়া এলাকার ওবাইদুল ইসলামের স্ত্রী পিয়ারা বেগম লিখেন, গত আগস্ট মাসের ৮ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী আমিনুর ইসলামের ছেলে মামুন মিয়া (২২) আইয়ুব আলীর ছেলে আমিনুর ইসলাম (৪৮) মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে ইনতাজ আলী, নবাব আলীর ছেলে মাশকুর আলম (২৮) ও মাসুদ মিয়া, খোকা প্রাং এর ছেলে রকি মিয়াসহ ১৪ থেকে ১৫ জন হাতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্লাস্টিকের জারকিনে কেরোসিনের তেল নিয়ে এসে তার বাড়ীতে আগুণ দিয়ে সম্পূর্ণ বাড়ী পুড়ে ভষ্মিভূত করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে।
এ বিষয়ে জেলা বগুড়ার শিবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলী আদালতে মামলা করেন। যার মামলা নং- ৫৮৮পি/২০২৪ইং।
বাড়ী-ঘর পুড়ে দেওয়ার পর তাদের বসবাসরত বাড়িতে রাত্রি যাপনের কোন জায়গা না থাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পাশের গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।
আরও লিখেন, মামলা করার পর থেকে তারা বিবাদীদের ভয়ে বাড়ীঘর মেরামত করতে পারছেনা। মামলার তদন্ত ভার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার এস আই রিপন মিয়ার উপর পরে। তদন্ত শেষে তিনি ঘটনার সত্যতা পেলেও সঠিক প্রতিবেদন কোর্টে প্রেরণ করেননি। (যার নং ৪০৪৪ তাং ২৩/৯/২৪ ইং) কারণ হিসাবে অভিযোগটিতে লেখা হয় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকার দাবী করে। ভুক্তভোগী দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় সাব ইন্সপেক্টর রিপন মিঞা সঠিক প্রতিবেদন জমা দেননি। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর থেকে ২টি বিদেশী গরু বিবাদীগণ অসৎ উদ্যেশে নিয়ে যায়, যা পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ উদ্ধার করে দেন।
বিবাদীদের মধ্যে ১নং বিবাদী বিজিবিতে চাকুরী করার সুবাদে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের কাছে থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে প্রকৃত রিপোর্টটি মিথ্যা করে কোর্টে প্রেরণ করে।
বিষয়টি পুনঃ তদন্ত করে সাব ইন্সপেক্টর রিপন মিঞা’র বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন প্রয়োগকারী অন্য কোন সংস্থার উপর পুনঃতদন্ত করার দায়িত্ব দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঠিক আইনী সহায়তা প্রদান করার জন্য বগুড়া জেলার পুলিশ সুপারের কাছে সহযোগিতাও চান ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগর বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা আলোকিত বগুড়া প্রতিবেদককে জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি হয়েছে সেটি আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ইতিমধ্যে তাকে শিবগঞ্জ থানা থেকে সারিয়াকান্দি থানার চন্দনবাইশা তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে সে অপরাধী হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
Posted ৬:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher