রবিবার ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় চাকুরিতে গিয়ে গুলিতে নিহত রহমত

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি   বুধবার, ২১ আগস্ট ২০২৪
189 বার পঠিত
পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় চাকুরিতে গিয়ে গুলিতে নিহত রহমত

সংসারের অভাব অনটনে বেশিদূর পড়াশোনা করতে পারেননি নিহত রহমত আলী। ছাত্র আন্দোলনে তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। দুর্গম চরাঞ্চলে বাড়ী হওয়ায় জানাজানি হয়নি তার কথা। তার মায়ের গগণ বিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হচ্ছে গ্রামের আকাশ। মানবেতর জীবনযাপন করছেন রহমতের পরিবার।

রহমত আলী বগুড়া সারিয়াকান্দির দুর্গম চরাঞ্চল জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে ৫ম শ্রেণি পাশ করে একই ক্যাম্পাসের জামথল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তার বাবা মুনজু মিয়া একজন দিনমজুর। তিনি সিসি ব্লোক টানার ভারি কাজ করেন। মুনজু উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল গ্রামের বাসিন্দা। বেশ কয়েকবার যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি কৃষিজমি সবকিছু হারিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের একটি জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন মুনজু। মারা যাওয়ার পর রহমতকেও অপর মানুষের জমিতে কবর দেয়া হয়েছে। নিহত ছেলে রহমতকে তাই বেশিদূর পড়াশোনা করাতে পারেননি।


২০২০ সালে ৮ম শ্রেণি পাশ করে পড়াশোনা ছেড়ে সংসারের হাল ধরতেই ঢাকায় পাড়ি জমান রহমত। তিনি ঢাকার গাজিপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টস এ চাকুরি করতেন। সারাদিন পরিশ্রম করে যে সামান্য বেতন পেতেন তা নিজের ব্যয় নির্বাহের পর সবটুকু বাড়িতে পাঠাতেন। তার টাকায় এবং বাবার দিনমজুরিতে তাদের সংসার চলতো। নিজে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তার ছোটভাই আল আমিনকে ঢাকায় নিয়ে এসে পড়াশোনা করাতেন। রহমতের ছোটভাই আল আমিন গ্রামেই এইচ এস সি পাশ করে ভাওয়াল বদলে আলম সরকারি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছেন।

আল আমিনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত রহমত গত ৫ আগষ্ট বিকালে বাসা থেকে বের হন। এরপর রাত ৮ টার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করার পর রাত ১০ টার দিকে গাজীপুর শ্রীপুর মাওনা চৌরাস্তা প্রশিকা মোড় এলাকার আল হেরা মেডিক্যাল সেন্টারে রহমতের লাশ সনাক্ত করা হয়। সেখানে দেখা যায় হাসপাতালের ট্রেচারে পরে আছে রহমতের নিথর মরদেহ। তখন আল আমিন বুঝতে পারেন মাওনা এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে রহমত নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশের গুলি রহমতের বুকের ডান পার্শ্যে ভেদ করেছে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রহমত। এরপর হাসপাতাল থেকে রহমতকে অটোরিকশায় বাসায় নিয়ে আসা হয়। তার পরদিন অ্যাম্বুলেন্স যোগে রহমতকে তার গ্রামের বাড়ি জামথল নিয়ে আসা হয়। নিজের জায়গাজমি না থাকায় রহমতকে জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেই তাকে দাফন করা হয়েছে। রহমতের বড়ভাই আব্দুস সোবহান একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ছোট বোন বন্যার বিয়ে হয়েছে। রহমতের বাড়িতে প্রতিদিনই চলছে শোকের মাতম। রহমতের দাদী রহমতের রক্তমাখা টি শার্ট বুকে নিয়ে সবসময়ই বিলাপ করেছেন। টি শার্টে গুলির চিহ্ন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তাজা রক্ত শুকিয়ে এখন টিশার্ট থেকে রক্তের গন্ধ বের হচ্ছে। রহমতের মা সুফিয়া বেগম ও,, বাবা ও,, বাবা বলে চিৎকার করছেন। তার গগন বিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হচ্ছে গ্রামের আকাশ। চিৎকার করতে করতে তিনি বারবার ছুটে যাচ্ছেন কবরের কাছে। সেখানে গিয়ে প্রলাপ বকছেন। বলছেন, হামার ছোলোক সরকার গুলি করে মারছে। হামরা গরিব মানুষ, হামরা কি আর এর বিচার করবের পামু? হামি আল্লার কাছে বিচের দিছি। আল্লাই হামার বিচের করবি। হামার সংসারের আয় রোজগারের পথ একন বন্ধ হয়া গেল। হামরা একন কি খামু, কুন্টি যামু, হামার বাবাক আর কুন্টি পামু?


রহমতের ছোটভাই আল আমিন বলেন, বড়ভাই আমাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করে আমাকে বাসাতেই থাকতে বলেছিলেন। আমাকে বাসায় থাকতে বলে সে নিজেই আন্দোলনে যাবে এবং পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিবে সেটা আমি কখনোই বুঝতে পারিনি।

জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম রিপন বলেন, নিহত রহমতের পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে, অভাবের তাড়নায় রহমত পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে গিয়েছে চাকুরী করতে। এখন তো তার পরিবার একেবারেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাবার দিনমজুরের ইনকাম আর গ্রামবাসীর সহায়তায় এখন তার সংসার চলছে।


সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমান বলেন, রহমানের নিহতের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন মর্মাহত। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। রহমানের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ আগস্ট ২০২৪

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!