রবিবার ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বগুড়ায় প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকারি ভাতার টাকা হারাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা

খালিদ হাসান, আলোকিত বগুড়া   রবিবার, ২৮ জুলাই ২০২৪
360 বার পঠিত
বগুড়ায় প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকারি ভাতার টাকা হারাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা

বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সরকারি ভাতার টাকা হারাচ্ছেন অনেক সুবিধাভোগী। প্রতারক চক্র নানা কৌশলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ (জিডি) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।


এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, অভিযোগের পর বেশ কয়েকজনের টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসবের জন্য ভাতাভোগীদের অসচেতনতা ও মোবাইল ফোনের ব্যবহার না জানাকে দায়ী করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।

শিবগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৩ হাজার ৩৫৩ জন বয়স্ক, ৫ হাজার ৭২৩ জন বিধবা ও ৬ হাজার ১৭৭ ব্যক্তির নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। কার্ডধারী প্রত্যেক বিধবা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা, বয়স্ক ৬০০ টাকা ও প্রতিবন্ধী ৮৫০ টাকা ভাতা পান। সেই হিসাবে তিন মাস পরপর এক বছরে চার কিস্তিতে তাঁদের টাকা দেওয়া হয়। এসব কার্ডধারীর মোবাইল ফোনে নগদ হিসাব নম্বরে ভাতার টাকা পাঠানো হয়। একশ্রেণির প্রতারক চক্র কৌশলে তাঁদের অনেকের কাছ থেকে সেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।


উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের দহপাড়া (আকন্দ পাড়া) গ্রামের রোকেয়া বেগম প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তিনি বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি সমাজসেবা অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে কল করে বলে, আমার নাকি নতুন ভাতা বই তৈরি হচ্ছে। বই নম্বরটা তাঁকে এসএমএস করে দিতে বলেছে। পরে আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে। সেই মেসেজ তাকে জানালে দেখি আমার টাকা নাই হয়ে গেছে। পরে এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। কিন্তু আজও টাকা ফেরত পাইনি।’

কিচক ইউনিয়নের চল্লিশছত্র ঘুঘারপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রেহেনা বেগম (৩৮) বলেন, ‘আমার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিয়েছে। কীভাবে টাকা কাটল কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার ধারণা, সমাজসেবা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত। তা না হলে ভাতাভোগীদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর হ্যাকাররা কোথা থেকে সংগ্রহ করল?’


একই ইউনিয়নের মাটিয়ান উত্তরপাড়া গ্রামের ভাতাভোগী ইউসুফ আলী (৭০) বলেন, ‘আমি মোবাইলের তেমন কিছুই বুঝি না। এজেন্টকে পিন নম্বর বলি, এজেন্টই টাকা তুলে আমার হাতে দেয়। এবার আমি ভাতার টাকা পাইনি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, আমার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা গ্রামের আসমা বেগম, চকপাড়া গ্রামের বাসু মিয়া, কাশিপুর গ্রামের জিল্লু মিয়া, কিচক ইউনিয়নের চল্লিশছত্র ঘুঘারপাড়া গ্রামের রেহেনা বেগম, মাটিয়ান পুকুরপাড়া গ্রামের মিজু আহমেদসহ উপজেলার অনেক ভাতাভোগীর টাকা এভাবেই প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ আলোকিত বগুড়াকে বলেন, ‘ভাতাভোগীরা অসচেতন হওয়ায় বারবার এমনটি হচ্ছে। তা ছাড়া অনেক ভাতাভোগী মোবাইল ফোনের ব্যবহার জানেন না। আমরা বারবার তাঁদের সতর্ক করেছি, কিন্তু তাতে কোনো ফল হচ্ছে না।’

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ আলোকিত বগুড়াকে বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যেই ভাতাভোগীদের টাকা হ্যাক হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাচ্ছি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৌশলে কয়েকজনের কিছু টাকা উদ্ধারও করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৮ জুলাই ২০২৪

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!