‘ফিল্মি স্টাইলে’ বগুড়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন ৪ জন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। কনডেম সেলের ছাদ কেটে বিছানার চাদর জোড়া দিয়ে ছাদে ওঠে প্রাচীর বয়ে নামেন তারা। তবে এঘটনায় কারাগারে বাইরের হাওয়ার স্বাদ নিতে দিলো না বেরসিক জেলা পুলিশ। মাত্র ২ ঘন্টার ব্যবধানে ধরা পরেন তারা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে পালিয়ে যায় এই ৪ জন আসামি। পালানোর ২ ঘন্টার মাথায় শহরের চেলোপাড়ার চাষী বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চার কয়েদি হলো কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গার নজরুল ইসলাম মজনু, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দির আমির হোসেন। তারা দুইজন ফোর মার্ডারের আসামি এবং বগুড়ার কাহালু পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নানের ছেলে জাকারিয়া ও বগুড়ার কুটুরবাড়ী পশ্চিমপাড়ার ফরিদ শেখ৷ বুধবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী গ্রেপ্তারের এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘দিবাগত রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে খবর পাই বগুড়া কারাগারের একই সেল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার কয়েদি পালিয়েছেন। পরে ৫টা ১০ মিনিটের দিকে শহরের চাষীবাজার এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে চার কয়েদি পালিয়েছিলেন তারা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত। তারা বগুড়া জেলা কারাগারে একই সেলে ছিলেন। রাতে ওই সেলের ছাদ ফুটো করেন। ফুটো করার পর তারা বিভিন্ন বেডশিট জোড়া দিয়ে উঁচু করে চাদর জোড়া দিয়ে রশির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে ডিসি অফিসের দক্ষিণের শেষ সীমানা মূল গেট দিয়ে পালিয়ে যান। এ সময় তাদের পরনে কোনো কয়েদির পোশাক ছিল না। পালিয়ে গিয়ে তারা চাষীবাজার এলাকায় একত্র হন। কিন্তু সেখান থেকে পালানোর আগেই সদর থানার একাধিক টিম তাদের ধরে ফেলে। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলে কারাগার কর্তৃপক্ষ ছবির সঙ্গে মিলিয়ে কয়েদিদের নিশ্চিত করেন।
এদিকে কারাগারের ছাদ কীভাবে ফুটো করে পালালো ৪ ফাঁসির আসামি এমন প্রশ্নের জবাবে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান বলেন, ‘যে সেলে চার কয়েদি ছিলেন সেটা ব্রিটিশ আমলের তৈরি। ছাদ দেখে মনে হয়েছে এটা দুর্বল। আর তারা এটা অনেক দিনের পরিকল্পনায় বাস্তবায়ন করেছেন। বাকিটা তদন্তে উঠে আসবে।’ এতে কতজন সদস্য রয়েছেন তাও খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়াও বগুড়া কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পালানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পুলিশ, র্যাব, কারাগার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। তাদের খুব দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Posted ৬:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher