বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ঐতিহাসিক মহাস্হান গড়ে বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার শাহ সুলতান বলখীর মাহী সওয়ার (রহ:) ওরস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই ওরসকে কেন্দ্র করে মাজারের আশপাশের জায়গাগুলোতে ৮/১০দিন আগে থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরিকাপন্থী,বাউল-শিল্পীরা তাবু তৈরি করে অবস্থান করে। মাজার এলাকার ২/১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লোকারণ্য হয়ে যায়। হরেক রকমের দোকান বসে। এই ওরসে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্হানগড়ের সব চাইতে বেশি ও বহুল আলোচিত পরিচিত মিষ্টান্ন খাবার কটকটি বিক্রি হয়ে থাকে। আশপাশের প্রায় ১৫০/২০০ দোকানে এবার কটকটি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, এ দেশে ইসলাম প্রচারে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ রয়েছে তাদের মধ্যে হযরত শাহ সুলতান বলখীর মাহী সওয়ার (রহ: ) ছিলেন অন্যতম। এবারের ওরস উপলক্ষে হযরত শাহ সুলতান বলখীর মাহী সওয়ার (রহ.) ভক্ত-আশেকানদের ঢল নেমেছে মাজার এলাকায়। নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
ওরসে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হজরত শাহসুলতান বলখীর মাহী সওয়ার (রহ.) ভক্ত-আশেকানরা গত শুক্রবার থেকে দলে দলে মাজারে আসতে শুরু করেন। শহরের রাস্তাঘাট অলিগলিতে এখন বাদ্য বাজছে। লাল সালু মাথায় বেঁধে ভক্ত-আশেকানদের ‘শাহসুলতানের কী জয়, লালে লাল বাবা শাহসুলতান’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠেছে মাজার এলাকা। এই ওরস উপলক্ষে এক শ্রেণির ভণ্ড গাঁজা সেবনকারীদের আস্তানায় পরিণত হয় মাজার এলাকা।
সরেজমিন দেখা যায়, ভন্ডরা আল্লাহু আল্লাহু বলে জিকির করার সময় হাতে একটা কল্কী নিয়ে জোরে একটা দম দিয়া মুখ দিয়া ধোয়া ছাইড়া চিক্কুর মাইরা উঠে বলে বাবা সুলতান দেখা দাও।
সাধকরা ভণ্ড বাবাকে গাঁজা সেবনের জন্য ঘিরে থাকে কিছু মুরিদ। তারা কেয়ামতের শাফায়েতের আশায় গাঞ্জা বাবার মুরিদ হয়। তাদের মুরিদ হওয়ার একটাই আশা গাঁজা সেবন করা।এদিকে প্রকাশ্যভাবে গাঁজা সেবন ও বিক্রি করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি বলে স্হানীয়রা জানান।
শাহসুলতান (রহ:) মাজারের উত্তর -পশ্চিম দিকে ছোট ছোট জিকিরের আসর বানাইয়ে লাজ শরম ভুলে প্রকাশ্যে সুন্দরীরাও গাঁজা সেবন করছে। প্রতিটি আসরে প্রায় কেজি হারে গাঁজা নিয়ে বসে আছে ভন্ডরা। এমন কি গাজা ব্যাবসায়ীরা ভন্ড সেজে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে।রাত যত গভীর হয় গাঁজা সেবনে জাকেরকা তত বেশি আকৃষ্ট হয়।তাবুগুলোর মধ্যে গাঁজার ধুয়ায় অন্ধকারের মত পরিবেশ হয়ে ওঠে।গাঁজার হাতে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে নাচে গানে মেতে ওঠে আগত সাধু ও তরীকাপন্থীরা।মাঝে মধ্যে বলে ওঠে “দে বাবা দেখা, তোর জন্য হয়েছি বাড়ি ছায়া,দেখা দে বাবা।”
লালমনিরহাট থেকে আগত একদল তরীকাপন্থীরা দলগতভাবে গাঁজা সেবনে মেতে ওঠলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বলে ওঠে “খাই একটু গাছের পাতা, তাই নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ব্যথা। সিদ্ধি খেলে,সুদ্ধ হয় এটা কি আপনারা জানেন। এরকম নানা কথা।
কুষ্টিয়া থেকে আগত কিছু তরীকাপন্থী মহিলাদেরকে গাঁজা সেবন করতে দেখা যায়। সাথে কিছু কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে। ছবি তুলতে গেলে তারা বাঁধা দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহল দাবী করে বলেন, আমরা বাঁধা দিলে কি হবে, প্রশাসনের কোন উদ্ধোগ নেওয়া না হলে এই গাঁজা সেবন বন্ধ হবে না।
মহাস্থান মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার বলেন, মহাস্থান মাজারের এই মেলাটি শত শত বছর ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা শুশঙ্খলাভাবে অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। আগত পুর্ণ্যাথীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
Posted ৪:২২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ মে ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher