রবিবার ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ধর্ষণের পর কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা

‘সীমারেরা হামার ময়নাডাক এত কষ্ট দিয়ে মারল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩
109 বার পঠিত
‘সীমারেরা হামার ময়নাডাক এত কষ্ট দিয়ে মারল’

‘হামার পরান পাখিডা মরার আগে এত কষ্ট সহ্য পালো। ৪০টা দিন আগুনে পোড়া গা লিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করল। কত চেষ্টা, কত কী করলু; কিন্তু পরান পাখিডাক বাঁচাবার পারনু না।’

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের নান্দুড়া গ্রামে ধর্ষণের পর ধরিয়ে দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মাদ্রাসাছাত্রীর (১৭) মা আহাজারি করতে করতে আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন।


গত ৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের সময় বাড়িতে একা পেয়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণ করেন এক তরুণ। পরে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার বিকেলে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তের পর গতকাল বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ বগুড়ায় এসে পৌঁছায়। আদরের নাতনিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার দাদি। কান্না আর আহাজারিতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, ‘হামার ময়নাডাক তোরা অ্যানা দে। সীমারেরা হামার ময়নাডাক এত কষ্ট দিয়ে মারল, পুলিশ কিচ্চু করবার পারল না।’


আজ ভোরে শিবগঞ্জে ওই মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির অদূরে উৎসুক নারী-পুরুষের জটলা। সেখানে সুগন্ধি সাবান ও লোবান জলে কিশোরীর শেষ গোসলের কাজ চলছে। বাতাসে ভাসছিল আতর, লোবান, ধূপ-কর্পূরের ঘ্রাণ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

স্বজনদের জড়িয়ে ধরে মেয়ের শোকে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বাবা। বিলাপ করে বলছেন, ‘৪০টা দিন ধরে মা হামার এত কষ্ট করল, মরার আগে দুনিয়াতে এত কষ্ট আর কেউ করেনি। আগুনে পোড়া দগ্ধ গা লিয়ে দিনে–রাতে যন্ত্রণায় ছটফট করেও বাঁচপার পারল না। মরণের কাছে হারে গেল। হামার মেয়েডাক যারে এভাবে যন্ত্রণা মারে ফেলল, হামি তারকেরে দ্রুত ফাঁসি চাই।’


নিহত কিশোরীর এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মেয়েডা এত ভালো ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। ধর্মভীরু ছিল। সেই মেয়েডাক এভাবে হত্যা করল পাষণ্ডরা। মেয়েডা মারা যাওয়ার খবরে গোটা গ্রাম শোকে স্তব্ধ।’

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ত। ৭ সেপ্টেম্বর কিশোরীর মা-বাবা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল। পরদিন দুপুরে বখাটে তরুণ সাইফুল ইসলাম (২০) বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন। মৃত ভেবে কিশোরীর গায়ে পাটের বস্তা ও কাপড় পেঁচিয়ে সয়াবিনের তেল ঢেলে আগুন দেন ওই তরুণ। এতে কিশোরীর দুই হাত, ডান গাল, গলার নিচের অংশ, বাঁ পাসহ শরীরের বেশির ভাগ অংশ দগ্ধ হয়। আগুনের তাপে কিশোরীর জ্ঞান ফিরলে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে বগুড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

ওই কিশোরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত সাইফুলকে আটক করে থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়। কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শিবগঞ্জ থানায় তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। অন্য দুই আসামি রঞ্জু (৪০) ও নাঈম (২৩) পলাতক। মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

Facebook Comments Box

Posted ৮:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!