বগুড়ার সোনাতলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মো.জহির বেপারীর(৩০) ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ৯ মাসের ছেলে সন্তানের জননী মোছা. তাসলিমা আকতার রুমা(২০) খুন হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ আগস্ট (রবিবার) দিবাগত গভীর রাত্রে নিজ বাড়ির শয়ন ঘরে। ঘাতক স্বামী ভেটরিনারী ঔষধ ব্যবসায়ী জহির বেপারী পলাতক রয়েছে। সে উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের বালুয়াপাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো.জিন্না বেপারীর ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ ৬জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তারা হলেন নিহতের শ্বশুর জিন্না বেপারী,শ্বাশুরী মোছা.জাহিদা বেগম,ভাসুর মো.জিফু বেপারী, চাচা শ্বশুর রাজিব হোসেন, জেঠা শ্বশুর এনামুল হক ও চাচী শ্বাশুরী জেসমিন বেগম।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে জামাই জহিরকে প্রধান আসামীকে করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
সরেজমিনে ও মামলা সুত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে জিন্না বেপারীর ছেলে জহির বেপারীর সাথে একই জেলার গাবতলী উপজেলার চামুরপাড়া (সুখানপুকুর) গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে তাসলিমা আকতারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহবিবাদ লেগেই থাকতো। এ ব্যাপারে উভয় পরিবারের লোকজন নিয়ে বিচার শালিশও হয়েছে। ঘটনার দিন ঘাতক স্বামী জহির রাত্রি ১২টার সময় বালুয়াহাট বাজার থেকে বাড়িতে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে ঘরোয়া বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জহির ধারালো ছুরি দিয়ে তার স্ত্রী তাসলিমার পেটে আঘাত করে। তাসলিমার চিৎকারে বাড়ির ও আসেপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাসলিমাকে উদ্ধার করে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত্রি আড়াইটার সময় মৃত ঘোষনা করেন। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নিহতের লাশ থানা হেফাজতে নেন এবং ঘটনাস্থল বালুয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৬জনকে আটক করে। আজ সোমবার সকালে পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ সৈকত হাসান আলোকিত বগুড়া’র প্রতিবেদককে জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেয়া ৪জনকে মুচলিকা নিয়ে বালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের হেফাজতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং অপর ২জন মামলার আসামী হওয়ায় তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক মূল আসামী জহিরকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Posted ১১:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ আগস্ট ২০২৩
Alokito Bogura | Editor & Publisher