বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মায়ের ঘরের মেঝে খুঁড়ে শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার চান্দারপাড়া গ্রাম থেকে মর্জিনা খাতুন (৩৪) নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মর্জিনা খাতুন চান্দারপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের মেয়ে।
এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ নিহতের মা রওশনারা বেগমকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মর্জিনা খাতুন তার মা রওশনারা খাতুন (৫৫), ছেলে রাব্বি ইসলাম (২১) ও তার বউ নুপুর খাতুনকে (১৮) নিয়ে চান্দারপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন। তাদের অভাব অনটনের সংসার। জীবিকার তাগিদে পরিবারটি নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি মর্জিনা খাতুন অসুস্থ হওয়ায় তার পক্ষে অনৈতিক কাজ করা সম্ভব হয় না। এতে পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে তাদের সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। প্রায় ৩ মাস আগে তারা মর্জিনাকে মারপিট করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে মর্জিনা। পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার চাপ সৃষ্টি করলেও মর্জিনা অনৈতিক কাজে রাজী হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৩০জুন মর্জিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মা, ছেলে ও ছেলের বউ। এরপর মর্জিনার মৃতদেহ রওশনারার ঘরের মেঝেতে পুতে রাখা হয়।
এ অবস্থায় হত্যাকান্ডের পরের দিন ঘরে তালা লাগিয়ে রওশনারা, রাব্বি ও নুপুর বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়। হঠাৎ করে পরিবারের লোকজন নিরুদ্দেশ হওয়ায় গ্রামবাসির মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ হলে শনিবার সকালে নিহত মর্জিনার মাকে ঢাকা থেকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে রওশনারার দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী মর্জিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে রাব্বি ইসলাম ও ছেলের বউ নুপুর খাতুন পলাতক রয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম, নিহত মর্জিনার মা রওশনারাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাকে সাথে নিয়ে মর্জিনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Posted ৮:৩৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩
Alokito Bogura | Editor & Publisher