বগুড়ার সোনাতলা প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলামকে প্রেসক্লাব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান হোসাইনের স্বাক্ষরিত অব্যহতিপত্র সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলাম বরাবর প্রেরণ করেন।
![]()
অব্যহতিপত্রে উল্লেখ করেন, বগুড়া জেলার মধ্যে সোনাতলা প্রেসক্লাব একটি স্বনামধন্য গঠনতান্ত্রিক ও নিয়ম তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে বিগত সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে সোনাতলা প্রেসক্লাব। কিন্তু অতি সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে আপনি অত্র প্রেসক্লাবের সভাপতি অনুমতি ছাড়াই একাধিকবার সাধারণ সভা আহবান করেছেন ,যা গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে প্রমান সহকারে লিখিতভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়ে জবাব দেওয়ার আহবান করতে হবে। অথচ আপনি নিয়ম নীতির কোন কিছুই অনুসরণ করেন নাই।
আরো উল্লেখ থাকে যে, আপনি আপনার খেয়াল খুশি মত পাঁচ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সোনাতলা প্রেসক্লাবের হিসাব নম্বরে সদস্য ফি বাবদ ২০০০ টাকা জমা রশিদ সহ প্রেস ক্লাবের প্রাথমিক সদস্য ফরমে আবেদন করোতো নির্বাহী কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ সভায় পাস হওয়ার পর আবেদনকৃত ব্যক্তি প্রাথমিক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ তাদের কর্মকাণ্ড সাংবাদিক সুলভ কিনা দুই বছর পর্যালোচনা করা হবে। এসবের কোন কিছুই অনুসরণ না করে আপনি প্রেসক্লাবকে বস্তির সংগঠন এ পরিণত করেছেন।
এছাড়াও আপনি আপনার সভাপতিত্বে সাধারণ সভা ডেকে সভাপতিকে তার পথ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং ঐদিন একটি নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেছেন। যার মধ্য দিয়ে আপনি শুধু অঘটনতান্ত্রিক নয় একটি হাস্যকর ঘটনা রচনা করেছেন। সংবাদকর্মী হিসেবে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আপনি অত্র প্রেসক্লাবে গঠনতন্ত্র লংঘনসহ সুনাম নষ্ট করেছেন।
আপনি বিগত সময়ে প্রেসক্লাব নির্মাণের জন্য সুজা মিয়ার নিকট থেকে চার হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন, যা প্রমাণিত এবং বিগত রমজান মাসে ইফতার মাহফিল এর ১ হাজার দুইশত টাকা আপনি নিজের কাছে রেখেছেন। এছাড়াও আপনি বিগত সময়ে আগুনিতাইড় গ্রামের জনৈক বিএস এর বাড়ি তে গিয়ে ডিবি পুলিশ এর ভয় দেখিয়ে বেআইনিভাবে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। অত্র প্রেস ক্লাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচার সালিশ অনতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসা করা হয়েছে। যাতে আমাদের সংবাদ কর্মীদের মান সম্মান ধুলোয় মিশে গিয়েছে। সর্বোপরি আপনি গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ড করায় কেন আপনার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে কেন স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে না মর্মে পত্র প্রাপ্তির দুই কার্য দিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নির্বাহী কমিটির বরাবর জবাব দাখিল করার জন্য বিনা ব্যর্থতায় অনুরোধ করা হলো। সেই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আপনাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লতিফুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কমিটি করেছি। আগের কমিটির বেশিরভাগ সদস্য নতুন কমিটিতে আছে তাই ঐ কমিটি থেকে আমরা এখন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শক্তিশালী।
আপনি সাধারণ সম্পাদক হয়ে সরাসরি সভাপতিকে অভিযোগ ছাড়া অব্যাহতি দিলেন এটা কি আপনাদের গঠনতন্ত্রে আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জি আছে। আমি যা করেছি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী করেছি। তার বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম আছে। সমিতির সবাই মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এখন আর কিছু বলার নেই; তারপরও আপনার যদি কিছু জানার থাকে আমার কাছে এসে কাগজপত্র দেখে যান।
প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমরান হোসাইন লিখন বলেন, আমাদের সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে সাধারণ সম্পাদক লতিফুল রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এসে গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে প্রেসক্লাবটি দোকানের কর্মচারী পরিচালনা করার মতো হাস্যকর ঘটনা তৈরি করেছেন। তাই তাকে সাংগঠনিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
Posted ৪:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher