বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিয়ামুল কবির’র পদত্যাগের দাবিতে ২ ফেব্রুয়ারী (রবিবার) স্কুল মাঠে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয়রা। আন্দোলন দমন করতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান শিক্ষকের মদদপুষ্ট বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা নিয়ামুল কবির দলীয় সুপারিশে পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। স্কুলে অবস্থিত ৭টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে আত্মসাৎ, সরকারি বরাদ্দের পাঁচ লক্ষ টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ, পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো থেকে শতকরা দশ ভাগ কমিশন আদায়, বিদ্যালয়ের সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি, ল্যাপটপ নিজের বাড়িতে ব্যবহার, স্কুলের ঘর দোকান ঘর হিসেবে ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত তিনি।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করে আসছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত ২ ফেব্রুয়ারি স্কুল মাঠে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে বহিরাগত লোকজন কর্মসূচিতে হামলা করে শিক্ষার্থীদের মারধর করে।
স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তার ছোট ভাই জুলফিকার রহমান টিটো পাকুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তারা দুই ভাই স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করতে মানববন্ধনে হামলা করে।
এদিকে, গত ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে হামলার পর তোপের মুখে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক নিয়ামুল কবির। এরপর থেকে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছেন।
Posted ৯:২০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher