বগুড়ার সোনাতলায় জমিজমা সংক্রান্ত জেরে দু-পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় নারীসহ উভয়পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের পদ্মপাড়া গ্রামে।
আহতরা হলেন- উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের পদ্মপাড়া (দক্ষিণ পাড়া) গ্রামের প্রতিবন্ধী বুলু বেপারীর মেয়ে নারগিছ বেগম, তার স্বামি বকুল আকন্দ ও অপরপক্ষের ফুল মিয়া ও তার ছেলে ফিরোজ বেপারী।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষই বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় পৃথক দুইটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ পদ্মপাড়া গ্রামের মৃত আছালত বেপারীর দুই ছেলে বুলু বেপারী ও ফুলমিয়া বেপারীর পরিবারের মধ্যে ১১ শতাংশ ফসলি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিবাদ চলে আসছে। এরই জেরে ১২ মে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, বুলু বেপারী ও ফুল মিয়া বেপারী আপন সহোদর দুই ভাই। তাদের মোট সম্পত্তি ২৩ শতাংশ। তারা দুই ভাই হওয়ায় তাদের সম্পত্তির সম্পুর্ন অংশই দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে আছালত বেপারী তার বোনের কাছ থেকে ১১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং বড় ছেলে বুলু বেপারীকে লিখে দেন। যার দলীলও রয়েছে বুলু বেপারীর কাছে। এদিকে অপর ভাই ফুলমিয়া বেপারী ওই ১১ শতাংশ জমি আগে থেকেই বেআইনি ভাবে ভোগ দখল করে আসছে বলে জানা যায়। তবে পরবর্তীতে বুলু বেপারী ও তার পরিবারের লোকজন দলীল অনুযায়ী ফুল মিয়ার নিকট হতে জমিটি ফেরত চায়। কিন্তু ফুল মিয়া তার বড় ভাই বুলু বেপারিকে সেই জমি দিতে রাজি না। এ নিয়ে ফুল মিয়া বেপারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগও করেছিলেন। সেই অভিযোগ সুত্রে ইউপি চেয়ারম্যান তাদের উভয়কে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন। সেখানে দলিল মুলে সম্পত্তির মালিক বুলু মিয়া হওয়ায় বিষয়টি ফুল মিয়ার বিপক্ষে যায়।
এরপর এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের মতামতের উপর ভিত্তি করে ওই ১১ শতাংশ জমি তাদের দুই ভাইকেই সমান ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়। এতে তারা উভয়েই রাজি হয় এবং নিজেদের মতো চাষাবাদ করতে থাকে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সিন্ধান্ত অনুযায়ী তারা উভয়েই ওই জমিতে আলাদা ভাবে চাষাবাদ করতে থাকেন। এভাবে প্রায় ১বছর শান্তিপুর্ন ভাবে চাষাবাদ করার পর প্রতিবন্ধী বুলু বেপারী তার অর্ধেক অংশ মিলনের পাড়া গ্রামের মোমিনের কাছে এগ্রিমেন্ট রাখে। অপরদিকে ফুল মিয়া বেপারীও তার অংশ মিলনের পাড়া গ্রামের ছামিদুলের কাছে এগ্রিমেন্ট রাখে। উক্ত জমিতে এগ্রিমেন্ট নেয়া ব্যক্তিরা প্রায় দুই বছর যাবত আলাদা আলাদা ভাবে চাষাবাদ করে থাকে।
স্বরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ফুল মিয়া বেপারী ওই ১১ শতাংশ জমি একক ভাবে দখল নেয়ার জন্য ২০২৫ সালে কৌশলে দলিলের সাথে মিল রেখে তার জাতীয় পরিচয় পত্রে নাম পরিবর্তন করেছেন। পরিবর্তনকৃত নাম দিয়েছেন ‘ফুল মিয়া বুলু বেপারী’। অর্থাৎ নামের সাথে তার বড় ভাইয়ের নাম যোগ করেছেন। আর সেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বর্তমানে তিনি ওই জমি জোরপুর্বক দখল নেয়ার চেষ্টা করেন। এরই সুত্রধরে ফুল মিয়া এবছর ওই ১১ শতাংশ জমির পুরো অংশেই জোড়পুর্বক ধান চাষ করে। কিন্তু প্রতিবন্ধী বুলু বেপারীর কোন ছেলে সন্তান না থাকায় তিনি প্রতিবাদ করতে ভয় পান। কারন কিছু বলতে গেলেই ফুল মিয়া তার ছেলেদের নিয়ে বুলু বেপারী ও তার পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিকর হুমকি প্রদান করতো। ইতিপুর্বেও এমন ঘটনার কথাও জানা গেছে। এমতাবস্থায় গত ১২ মে (সোমবার) সকালে ফুল মিয়া বেপারী তার ছেলেদের নিয়ে জমিতে গিয়ে বুলু বেপারীর অংশের ধান জোড়পূর্বক কাটতে থাকে। এতে বুলু বেপারীর মেয়ে নারগিছ আক্তার তাদেরকে নিষেধ করায় ফুল মিয়া ও তার ছেলেরা মিলে নারগিছকে বেধরক মারপিট শুরু করে। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নারগিছের মাথায় আঘাত করে প্রতিপক্ষরা। এতে নারগিছ গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার স্বামী বকুল আকন্দ তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করে ফুল মিয়া ও তার তিন ছেলে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়।
এঘটনায় আসেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং তাদেরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সোনাতলা উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
বুলু বেপারী শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী। জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রতিবন্ধি কার্ড, জন্মনিবন্ধন, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ, জমির দলিল সহ সকল কাগজপত্রে তার নাম বুলু বেপারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে দেখা গেছে। অপরদিকে প্রতিবন্ধি বুলু বেপারীর আপন সহোদর ছোট ভাই ফুল মিয়া বেপারী একজন সুস্থ সবল ব্যক্তি। জাতীয় পরিচয়পত্র, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ, অন্যান্য কাগজপত্র ও ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার কাগজ সহ সকল স্থানেই তার নাম ফুল মিয়া বেপারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে কিন্ত ২০২৫ সালে এসে তিনি নাম পরিবর্তন করে ফুল মিয়া বুলু বেপারী করেছেন। অর্থাৎ তার নামের সাথে বড় ভাইয়ের নাম যুক্ত করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত পুর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Posted ৪:০৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher