রিমন আহম্মেদ বিকাশ: বগুড়ার সোনাতলায় মাদক (গাঁজা) সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় নিজ বাড়িতে আপন ছোট বোনের স্বামী মো.শাকিল মিয়ার ছুরিকাঘাতে মো.আপেল খন্দকার(৪০) নামে এক যুবক খুন হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই খুনি শাকিল মিয়া পলাতক রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া গ্রামে। নিহত আপেল ওই গ্রামের মো. দুদু খন্দকারের ছেলে।
জানা যায়,ভেলুরপাড়া(উত্তর পাড়া) গ্রামের দুদু খন্দকারের মেয়ে মোছা.সাবানা খাতুনের সাথে বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো.শাকিল মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই শাকিল মিয়া শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থেকে ইলেকট্রিশিয়ান কাজের পাশাপাশি মাদক সেবন সহ বিক্রি করে আসছিল। সন্ধার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা হতে মাদকসেবীরা মাদক কেনার জন্য শাকিলের কাছে আসতো। শাকিলের অনুপস্থিতিতে বিক্রি করতো তার স্ত্রী সাবানা বেগম। মাদক সেবন ও বিক্রি করতে বার বার নিশেধ করেছে সাবানা বেগমের ভাই(শাকিলের সমন্ধি) আপেল মিয়া। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো।
সরজমিনে গেলে নিহতের স্ত্রী কল্পনা বেগম জানান, ঘটনার দিন একই ইউনিয়ের শিচারপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন এর ছেলে শাওন মিয়া,ফুলমিয়ার ছেলে রাসেদ ও লেবু মিয়ার ছেলে রায়হান শাকিলের নিকট মাদক কেনার জন্য আসে। ঠিক সেইমুহুর্তে তার স্বামী ভেলুরপাড়া বাজার থেকে বাড়িতে আসলে ওই মাদকসেবিদের সাথে তার স্বামীর উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটি শব্দ শুনে ঘর থেকে বাহিরে আসেন কল্পনা বেগম। স্বামী -স্ত্রী উভয়েই মাদকসেবিদর তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে। এতে মাদকসেবিরা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং মাদকসেবিদের একজন মোবাইল করে বিষয়টি শাকিলকে অবগত করে। সেসময় শাকিল রেল লাইনের উপর মাদক বিক্রি করছিল বলে জানান কল্পনা বেগম। সেখান থেকে এসে শাকিল তার সমন্ধির উপর চরাও হয়ে বলে যে,ওরা আসবেই,এটা আমার ব্যবসা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলের নিকট থাকা গাঁটার ধারালো চাকু আপেল মিয়ার বুকে সজোড়ে বসিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আপেল মাটিতে লুটে পড়ে। এ সময় কল্পনা বেগমের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আপেলকে দ্রুত সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।
স্থানীয়রা শাকিলের মাদক কারবারির বিষয়টি শিকার করেন।
এ ব্যাপারে সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ সৈকত হাসান আলোকিত বগুড়াকে জানান, মৃত দেহের ময়নাতদন্ত শেষে আপেল মিয়ার লাশের জানাজা শেষে তার পারিবারিক গোরস্থানে কবরস্থ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এখনও কোন আসামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি তবে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Posted ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০২৩
Alokito Bogura | Editor & Publisher