অতীত সভ্যতার লীলা ভূমি বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। যার সুনাম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়েছে। যেখানে শায়িত আছেন উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ওলীয়ে কামেল হযরত শাহ সুলতান বলখী (রহঃ)।
সেই পবিত্র মাজার এলাকায় বেশকিছু অসাধু ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে দিবানিশি করছে পতিতাদ্বারা দেহ ব্যবসা ও মাদক বেচা-কেনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের মহাস্থান জাদুঘরের সন্নিকটে শীলাদেবী ঘাট গেট সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু বাড়ীতে চলছে সুন্দরী নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা। সেই সাথে ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তিরা আলোকিত বগুড়ার প্রতিবেদককে জানান, মহাস্থানের এক যুবক এখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন বয়সের নারীদের দিয়ে দিনে রাতে চুটিয়ে দেহ ব্যবসা করে আলাদিনের যাদুর চেরাগ পাওয়ারমত রাতা রাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন।
এছাড়াও শীলাদেবি নামক স্থানে গড়ে উঠেছে অনেক বাড়ী-ঘর। যেখানে বহিরাগত ব্যক্তিরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ দেহ ব্যবসা চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাস্থানগড়ে ভ্রমনে আসা দর্শনার্থী, ছাত্র সমাজ, শ্রমজীবি, চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেন। সুন্দরী নারীদের দ্বারা টোপ দিয়ে বাড়িতে ঢেকে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করেন। একপর্যায়ে ওই চক্রের সদস্য কিশোর গ্যাংরা সেখানে গিয়ে জুটিদের আটক করেন। পরে মারধর, পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় অথবা বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা। তখন তাদের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে বিকাশ অথবা নগদে নেয় টাকা। তখন নিরুপায় হয়ে তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে হয়।
সচেতন এলাকাবাসী আক্ষেপ করে বলেন, “শিবগঞ্জ থানার প্রধান সড়ক এটি” আর এ সড়ক সংলগ্ন স্থানে প্রশাসনকে ম্যানেজ না করলে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ কিভাবে করার সাহস পায়”। পুলিশ ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাসিক মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা দিয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে জিরো থেকে হিরো হচ্ছে বলে তারা আলোকিত বগুড়ার প্রতিবেদককে জানান।
যার ফলে দিন-দিন অবৈধ কর্মকাণ্ড-বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে-কারনে নষ্ট হচ্ছে কোমলমতি ছেলেদের জীবন। অন্ধকারে ধাপিত হচ্ছে ঐসব কোমলমতি ছেলেরা। শুধু দেহ ব্যবসা নয় ওই বাড়ী গুলোতে রমরমা ইয়াবা বিক্রিও হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান আলোকিত বগুড়াকে বলেন, ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় একটি পবিত্র স্থান এখানে যারাই দেহ ও মাদক ব্যবসা কারবার ঘটিয়ে অপবিত্র করবে তাদের কারোই ছাড় হবে না। অন্তত আমি যতদিন এই উপজেলায় আছি ততদিন কোন অপরাধী যদি অপরাধ সংঘটিত করার চেষ্টা করে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দমন করা হবে। পাশাপাশি তিনি এধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
Posted ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
Alokito Bogura | Editor & Publisher