বগুড়ায় এক সেনা সদস্য কর্তৃক নিজ স্ত্রী সন্তানকে ধারানো চাকু দ্বারা গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ হত্যা নিশ্চিত করে পালাতে পারেনি ঘাতক আজিজুল হক (২৪)।
আটককৃত সেনা সদস্য আজিজুল হক। সে আবাসিক হোটেলে স্ত্রী আশামনি (২২) ও ১১ মাস বয়সী সন্তান আব্দুল্লাহেল রাফীকে গলাকেটে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে কক্ষে রেখে পালানোর সময় আটক করা হয়েছে। তার পুত্রের দেহ থেকে মাথা বিছিন্ন করে করতোয়া নদীতে নিক্ষেপ করেছে।
ঘটনাটি শনিবার দিবাগত রাতে ঘটলেও রবিবার (২জুন) সকাল ১১টার দিকে প্রকাশ পায়। ঘটনাটি ঘটে বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় শুভেচ্ছা আবাসিক বোর্ডিংয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার ধুনট উপজেলার হেউটনগর গ্রামের হামিদুল হকের পুত্র আজিজুল হক। সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত সেনা সদস্য আজিজুল হক ৩ বছর আগে বগুড়া শহরতলীর নারুলী তালপট্টি এলাকার আসাদুল ইসলামের মেয়ে আশামনি (২১) কে পারিবারিক প্রস্তাবে উভয় পক্ষ সম্মিলিত হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর আশামনি সন্তান প্রসবের জন্য বাবার বাড়ীতে আসেন। এ ৩ বছরের ভিতরে তাদের ঘরে আব্দুল্লাহেল রাফী নামের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ মাস হলো আজিজুল হক ছুটি নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই কাটান। (১ জুন) তার ছুটির শেষ দিন। ছুটি শেষে রবিবার সে কর্মস্থলে যোগদান করবেন। কিন্তু ছুটির ২ মাসের ভিতরেই কি আজিজুল স্ত্রী সন্তান কে হত্যার পরিকল্পনা আটে। টানা ২ মাসের ছুটি শেষে খুনী আজিজুল হক কর্মস্থলে যাবে। এজন্য স্ত্রী ও আদরের সন্তানকে নিয়ে যাবে বগুড়ার অভিজাত শপিংমলে মার্কেট করতে। শ্বশুর বাড়ীর লোকজনকে এ কথা বলেই স্ত্রী সন্তান কে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর রাত ৮টায় স্ত্রী আশামনির মোবাইল ফোন আজিজুল হক কৌশলে নিয়ে বন্ধ করে রাখেন। এবং তার শ্বশুর আসাদুল ইসলামকে ফোনে বলেন, আশমনি ও তার পুত্র আব্দুল্লাহেল রাফীকে নারুলী যাওয়ার জন্য রিকশায় তুলে দিয়েছেন। এদিকে স্ত্রী আশামনি ও পুত্রকে নিয়ে ঘাতক আজিজুল বগুড়ার শাহজানপুর রাত ৯ টার দিকে শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেলে রাত্রী যাপনের কথা বলে ৩০১ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে আজিজুল নিজেকে মিরাজ এবং তার স্ত্রীকে তমা এবং তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে পরিচয় দেন।
শুভেচ্ছা হোটেলে কর্মরত রবিউল বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রুম ছেড়ে ভাড়া পরিশোধ করতে চান। এ সময় আমরা তার স্ত্রী-সন্তানের কথা জানতে চাইলে সে জানান, স্ত্রী রাতেই চলে গেছে। একপর্যায়ে তার কথাবার্তায় সন্দেহজনক হলে তাকে নিয়ে রুম দেখার জন্য যাই। এসময় তার ভিতরে ভীতিকর পরিস্থিতি দেখা যায়। তখন তাকে আটক করে জিজ্ঞেস করতেই স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে শাহজাহানপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা আসাদুল ইসলাম কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, জামাই আজিজুল হক ২ মাসের ছুটিতে বাড়ি আসে। বৃহস্পতিবার জামাই এসে ২ দিন থেকে শনিবার মার্কেট করার জন্য বের হয়। পরে জামাই জানান মেয়ে আর নাতীকে রিকশায় তুলে দিয়েছেন। এরপর থেকে মেয়ে আর নাতীর কোন খোঁজখবর পাই না। সম্ভাব্য অনেক জায়গায় খোঁজ করেও তাদের পাওয়া যায় না। পরে জানতে পারি বনানী একটি আবাসিক হোটেলে মা- ও শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে ও নাতী।
আজিজুল পুলিশকে জানান, তার স্ত্রী ও সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে কক্ষের বাথরুমে রেখেছে। কিন্তু অবুঝ শিশুটিকে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে সকালে করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়। পরে পুলিশের একটি দল শিশুটির মস্তষ্ক উদ্ধারের জন্য আজিজুলকে সাথে নিয়ে নদীতে উদ্ধারের তৎপরতা চালায়। এবং ওই ভাড়াকৃত আবাসিক বোর্ডিংয়ের খাটের চড়াট থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ২ টি ধারালো চাকু উদ্ধার করে পুলিশ।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, তাদের স্বামী স্ত্রীর ভিতর পূর্বে কোন বিবাদ থাকতে পারে। যেহেতু হত্যাকারী ধরা পড়েছে হত্যার রহস্য দ্রুতই বেরিয়ে আসবে।
Posted ১০:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০২ জুন ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher