শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে, শারদীয় দুর্গোৎসবের। আর ক’দিন পরই দেবী দুর্গা আসছেন মর্তলোকে। তার আগমনকে ঘিরে তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতীমা শিল্পীরা। সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। এ উৎসবে প্রধান উপজীব্য প্রতিমা। সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে বগুড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
১৪ অক্টোবর মহালয়ার আগেই শেষ করতে হবে প্রতিমা তৈরি। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে আকৃতি দিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়া সদরের আশোকোলা কর্মকারপাড়া পুরাতন দূর্গা মন্দির ও বারোয়ারী সনাতন দূর্গা মন্দিরে চলছে রাত-দিন প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পী আর সহযোগীরা মিলে বানাচ্ছেন দুর্গাপূজার প্রতিমা। মাটি আর খড় পানি দিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে এসব প্রতিমা। আশোকোলা কর্মকারপাড়া পুরাতন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি শ্রী বিপুল কর্মকার বলেন, এরপর এতে দেওয়া হবে রং। এক সেট প্রতিমার জন্য দেবী দুর্গা ও তার চার সন্তান- সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মীকে বানানো হয়ে থাকে। পাশাপাশি থাকে অসুর, সিংহ, হাঁস, প্যাঁচা ও সাপ।
আশোকোলা বারোয়ারী সনাতন দূর্গা মন্দিরে সভাপতি শ্রী স্বপন জানান, এবার আমাদের এখান বানানো হচ্ছে ২টি দুর্গাপূজার প্রতীমা। সেখানে কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পী শ্রী শুকান্ত পাল ও শ্রী হারাধান মহন্ত।
জানা গেছে, এ বছর বগুড়ায় ১২টি উপজেলায় ৭০৭টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলায় ১২২টি, সারিয়াকান্দিতে ২৩টি, সোনাতলায় ৫৫টি, শিবগঞ্জে ৬০টি, আদমদীঘিতে ৬৬টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪২টি, কাহালুতে ৩৭টি, নন্দীগ্রামে ৪৬টি, শেরপুরে ৯৪টি, ধুনটে ৩৮টি, গাবতলীতে ৭৩টি ও শাজাহানপুরে ৫০টি। এর মধ্যে ১৫০টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৪০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৩১৭টি সাধারণ। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
আগামী ১৪ অক্টোবর মহালয়া, চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। এরপর ২০ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব।
প্রতিমা শিল্পী শ্রী শুকান্ত পাল বলেন, এ বছর ২০টি কাজের অর্ডার পেয়েছেন তিনি। বেশিরভাগ বগুড়ার বিভিন্ন পূজামন্ডপের। জেলার বাইরে থেকে তিনটি অর্ডারও পেয়েছি। পূজার জন্য সাধারণত তিন মাস আগে থেকে কাজ শুরু করতে হয়। আমার প্রতিমার কাজ প্রায় শেষ, এখন শুধু রঙ দিয়ে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পালা।
কথা হয় আরোও কয়েকজন প্রতিমা শিল্পীর সাথে। তারা জানান, বর্তমান মাটি, রঙ, বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। আগে দুর্গাপূজার এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে ২০ থেকে ৫০হাজার টাকা খরচ হতো। এখন তা বেড়ে ৭০হাজার টাকার বেশি হয়ে গেছে। পরিশ্রম অনুযায়ী আমাদের পারিশ্রমিক মিলছে না। এই পেশায় কাজ করে পূজার উৎসবের সময়ই শুধু আনন্দ। সারাবছর তেমন কাজ থাকে না। বাকি দিন কষ্ট করে চলতে হয়। তরুণরা আসতে চান না এ পেশায়। আমরা যারা আগে থেকে এ পেশার সাথে জড়িত তারাই প্রতিমা বানাচ্ছি।
Posted ৪:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
Alokito Bogura | Sazu Mia