সারা বছর তেমন একটা কাজ থাকে না ছাতা কারিগরদের। তবে বর্ষা যেন তাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কারণ, বর্ষা এলেই কদর বাড়ে তাদের। আর গেলো কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ার ছাতা কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বগুড়া শহরের ছাতাপট্রি ও কাঁঠালতলা ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত ছিলেন জহুরুল ইসলাম। দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে তিনি এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কাজের ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মোটামুটি এখন কাজ হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। তবে অন্য সময় তেমন একটা কাজ থাকে না। আয় রোজগার কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ছাতার কাপড়, হাতল, স্প্রিং সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। সরবরাহ রয়েছে অনেক কম। তারপরেও প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টি ছাতা মেরামত করে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়।
![]()
ছাতাপট্রির গলিতে বসা আরেক ছাতা কারিগর চেরু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলে ছাতা মেরামতের মোটামুটি কাজকর্ম হয়। তবে বছরের অন্য দিনগুলোতে সে রকম কাজ হয় না। এ সময়টাতে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায় বহুগুণ।
সদর উপজেলার সাবগ্রাম থেকে ছাতা মেরামত করাতে আসা আকবর আলী বলেন, চারটি ছাতা নষ্ট হয়ে ঘরে পড়েছিল। বৃষ্টির সময় ছাতার দরকার হয়। তাই ঠিক করতে এসেছি। শহরের নারুলী এলাকা থেকে ছাতা মেরামত করতে আসা শেফালী বেগম বলেন তার একটি ছাতা বাড়ীতে পড়ে ছিলো তাই মেরামত করতে এসেছেন নতুন ছাতা কেনার চেয়ে অল্প টাকায় পুরোনোটাই মেরামত করা ভালো এতে কিছুটা সাশ্রয় হবে।
শহরের রহমান নগর থেকে ছাতা মেরামত করতে আসা মাহমুদ বলেন, একটি ভালো ছাতা ক্রয় করতে লাগে ২০০-৫০০ টাকা। এর চেয়ে পুরোনো ছাতাটি মেরামত করে নেওয়াই ভালো। তা ছাড়া গত কয়েকদিন আগেই এই ছাতাটা নতুন কিনেছিলাম এখনই মেরামত করতে আসতে হলো।
Posted ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৩
Alokito Bogura | Editor & Publisher