বগুড়ার সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রিপন মাহমুদ বিতানকে ❝আমার কথা না শুনলে বস্তায় ভরে যমুনায় ফেলে দেব❞ এমন হুমকি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান। এ ঘটনায় বিতান নামের এই নেতা অনেকটাই বিরম্বনায় পরেছেন।
তিনি জানায়, সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি লাল মাহমুদ নিজের ইচ্ছেমতো যমুনার চরে প্রায় কয়েকশো বিঘার কাশবন বিক্রয় করে দিয়েছেন। আমাদের যাদের জমি আছে তারা যখন বিষয়টি জানতে পারলাম তখন কাশবনে অবস্থানরত মহিশ বাথানের মালিকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় লাল মাহমুদ থানা থেকে পুলিশ নিয়ে গিয়ে আবারো মহিস বাথান মালিকদেরকে কাশবাগানে যেতে বলেনে। এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ফোন দিয়ে নানা ধরনের কথা বলার এক পর্যায়ে বলেন যে, আমার কথা না শুনলে বস্তা ভরে যমুনার পানিতে ফেলে দিব।
রিপন মাহমুদ বিতান আরো বলেন, এই ঘটনার পরে আমি কালিতলা বাধের পাশে চা-ষ্টলে বসে ছিলাম এমন সময় কাশবনে যাওয়া ওই এসআই আমাকে বলেন যে, তাকে (এসআইকে) আসলে ইউএনও স্যার পাঠাইছে। এসআই আমাকে ইউএনও এর সাথে কথা বলতে বলেন। সে অনুযায়ী আমি কিছুক্ষন পরে ইউএনও সাহেবের কাছে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এমন সময় লাল মাহমুদ তার দলবল নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়। আমি বিষয়টিকে সাধারণভাবে নিয়ে কোন গন্ডগোল ফাসাদে জরাইনি। বরং ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু আজ আবার লাল মাহমুদ মাইক ভাড়া নিয়ে আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে লাল মাহমুদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যমুনার চরে আমাদের অনেক যমি প্রায় ১০০ বিঘা কিন্তু ওইসব জমি ১ নম্বর খতিয়ানে ছিল। এখন চর জেগেছে সেখানে কাশবন হয়েছে। ১০০ বিঘা মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা জমির কাশবন আমরা মহিশ মালিকদের কাছে দিয়েছে কিন্তু এসব নিয়ে বিতান মেম্বর ঝামেলা সৃষ্টি করেন। আমার এক ভাতিজা শ্রমীক দলের তাকে মারধোর করেন একারনে তারা দুইটি মাইক ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ প্রচারনা চালায় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেয়। তবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা নিশেধ করায় আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বলেছেন যে যদি আমার শালিস মনমতো না হয় তখন সেটা বলিয়েন। লাল মোহাম্মাদ আরো বলেন চরের মানুষের চর দখল করারই ওদের কাজ আমাদের অনেক জমাজমি ছিল কিন্তু আমরা কোনদিন খোজও নিতে যাইনি। এখন চর জেগেছে একারনে গিয়েছি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর এ আযম বাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও আমাকে জানিয়েছেন। আমরা দুই পক্ষকেই নিয়ে আগামি শনিবারের দিন বসে একটা মিমাংসার চেষ্টা করবো।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান বলেন, আসলে আমি ওভাবে বলিনি। আজো ওনাদের সাথে কথা বলেছি যে, তারা যেনো দ্রুত মিমাংসা করে নেয়। লাল মাহমুদ মাইক ভাড়া করে বিতানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা প্রচার করছে;এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই তবে দ্রুত জানার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য; যমুনা চরে শত-শত একর জমির কাশবাগান নিয়ে চলে মহা বানিজ্য। অর্থাৎ যাদের জমি আছে কিংবা নিজেরা আবাদ করার জন্য চেষ্টা করেন তাদেরকে স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ক্ষমতাশালীরা লক্ষ লক্ষ টাকার কাশবন বিক্রয় করে দেন মহিশ বাথান মালিকদের কাছে। যমুনার কয়েকটি চরের কাশবন এবারো প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিক্রয়ের কথা জানা গেছে। এই টাকার ভাগ পেয়ে থাকে বিক্রয়কারী ছাড়াও কিছু কর্মকর্তা ও নেতারা। একারনেই বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারাও বেশ আগ্রহী।
Posted ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৪
Alokito Bogura | Editor & Publisher