শনিবার ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সরিষা ফুল থেকে ৩৫ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করছেন চাঁন মিয়া

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি   শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
156 বার পঠিত
সরিষা ফুল থেকে ৩৫ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করছেন চাঁন মিয়া

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহে ভরপুর। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রাম্যমান মৌ চাষিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছির খামার স্থাপন করেছে।

শুরুর দিকে সরিষার ক্ষতি হবে ভেবে কৃষকেরা মৌ বক্স বসাতে আপত্তি করলেও কৃষি অফিসারের পরামর্শে এখন এলাকায় মৌচাষ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবছর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মৌচাষিরা তাদের শত-শত মৌ বক্স নিয়ে বিভিন্ন প্রামে জমিতে স্থাপন করেছে।


মৌ চাষিরা বলেন, মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাক্স। যার উপরের অংশটা কালো রঙের পলিথিন ও চট দিয়ে মোড়ানো থাকে। বাক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি পাঁচ থেকে সাতটি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে এক ধরনের সিট। পরবর্তীতে বাক্সগুলো সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। পাশাপাশি বাক্সগুলোর ভেতরে দেওয়া হয় রানি মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি। রানির আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় দুই থেকে তিন হাজারের মতো পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধুসংগ্রহ করে চলে আসে ক্ষেতের পাশে স্থাপিত বাক্সেই। ৭থেকে ১০দিন পর মৌচাকে মধুর নিষ্কাশন যন্ত্র দিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয় মধু। এতে প্রতি ১০দিনে মৌকলনী থেকে প্রতি বাক্সে ৩ থেকে ৪ লিটার মধু সংগ্রহ করেন তারা। মৌসুম শেষে মৌমাছিদের খাবার হিসাবে ডাল ও চিনি মিশ্রিত করে পানি দেওয়া হয়।

এ নিয়ে কথা হয় সিরাজগঞ্জে জেলার রায়গঞ্জ থানার সিমলা গ্রামের চাঁন মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, অভাব অনটানের কারণে সংসারে খরচ চালানো খুব কষ্ট হচ্ছিল। কোন উপায় না পেয়ে বন্ধুর পরামর্শে ভ্রাম্যমাণ মৌ চাষের উপর ট্রেনিং নেই।ট্রেনিং শেষে নিজে কিছু মৌমাছি দিয়ে মধু সংগ্রহে করতে থাকি। ৩৫ বছর ধরে মধুর সংগ্রহের পেশায় জড়িত।


এবার বগুড়া সদর, কাহালু ও দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ৬০০টি মৌচাকের বাক্স স্থাপন করেছি। দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাহারপুকুর, তেলিগাড়ি, লালকাপুল,এলাকায় মৌচাকের বাক্স স্থাপন করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতিটি বাক্স থেকে একটা সিজনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। তার মতে আবহাওয়া যদি ভালো থাকে সরিষার ফুল থেকে মৌ খামারের মাধ্যমে তার সকল খরচ বাদ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ দেখতে পারবেন । এ স্থান হতে প্রতি সপ্তাহে ৫০হতে ৬০মণ মধু সংগ্রহ হয়। প্রতি লিটার মধু প্রায় ৪ শত টাকা দরে দেশের বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি এসে মধু কিনে নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, সরিষা ফুল থেকে মৌচাষের মাধ্যমে একদিকে দেশের মধুর চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে মৌমাছির সঠিক পরাগায়নের ফলে জমিতে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে এবং খামারিও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


Facebook Comments Box

Posted ৯:১৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!