শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত আট মাস আগে আনা আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। তার অনেকগুলোই জনবলসংকটে এখনো চালু করা হয়নি। এই কারণে একদিকে যেমন রোগীদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে এসব মূল্যবান যন্ত্র ব্যবহার না করায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরজমিনের গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের প্যাথলজিতে পড়ে আছে যে মেশিন দিয়ে রক্তে কোনো ধরণের জীবাণু রয়েছে, তা শনাক্ত এবং তার ওষুধ নির্দেশ করে দেয়।
একইভাবে পড়ে আছে যক্ষ্মা রোগের ধরণ নির্ণয়ে এবং তার চিকিৎসায় কি ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে, তার নির্দেশনা প্রদানের জন্য যক্ষ্মা কালচার মেশিন, এনজিওগ্রাম (কফ ল্যাব) ও বায়োপসি করার মেশিন ও ব্লাড কালচার মেশিন। এই মেশিনগুলো চালনার জন্য নেই প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান এবং জনবল। ফলে মেশিনগুলো বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
হাসপাতালটিতে আধুনিক মানের উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সব ধরণের এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, ইউএসজি, ইসিজি, ইকো, ইটিটি, চোখের ল্যাসিক সংযোজন সুবিধাসহ ডেন্টাল ইউনিট চালু করা হয়েছে। ল্যাপারোস্কপি অপারেশনের সুবিধাসহ রয়েছে সব ধরণের অপারেশনের ব্যবস্থা। শিশু, গাইনি, অর্থোপেডিক, ইএনটি মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়েছে। রয়েছে সিসিইউ সুবিধা। কিন্তু ব্লাড কালচার মেশিন, যক্ষ্মা কালচার মেশিন, এনজিও গ্রাম (কফ ল্যাব) ও বায়োপসি পরীক্ষা করার মতো অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মেশিন হাসপাতালে প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেন, ব্লাড কালচার মেশিন, যক্ষ্মা কালচার মেশিন, এনজিওগ্রাম (কফ ল্যাব), ও বায়োপসি পরীক্ষা করার মতো অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মেশিন প্রায় আট মাস আগে হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এখনো চালু করা যাচ্ছে না।
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস মুহা. খায়রুল আতাতুর্ক বলেন, ‘এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রোগের পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।’
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের সংসদ সদস্য, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে চিকিৎসা খাতে। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতি প্রয়োজনীয় মূল্যবান যন্ত্রপাতি জনবলের অভাবে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি আমাকে সেভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।’
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ-১ আসন সংসদ সদস্য ও প্রয়াত মোহাম্মাদ নাসিমের ছেলে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় বলেন, প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ অতি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে, এটা আসলে মেনে নেওয়া যায় না। আমি বিষয়টির অতি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেবো।
Posted ৪:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
Alokito Bogura | Sazu Mia