গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শালমারা ইউনিয়নের হিয়াতপুর গ্রামে সহদর দুই ভাইয়ের মধ্যে জমাজমি ভাগ বাটোয়ারার লক্ষে শালিশ বৈঠকে বসেন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গ্রামের মাতামুরব্বীরা।
ওই বৈঠকে ছোটভাই বগুড়া-১২ এর র্যাব সদস্য মো.আহসান হাবীব(২৫) এর মারপিটে বড় ভাই সেনা সদস্য মো.রাশেদুল ইসলাম(৩২) আহত হয়ে সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার চিকিৎকরা তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আহসান হাবীব ও রাশেদুল ইসলাম হিয়াতপুর গ্রামের মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে।
জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের হিয়াতপুর গ্রামে জমাজমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে মৃত মোজাফফর হোসেনের দুই ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও আহসান হাবীবের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আপস-মিমাংসা না হওয়ায় ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বাড়ীতে শালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে ও্ই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ, ইউপি সদস্য রুবেল হোসেন ও গ্রামের মাতামুরব্বীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে বড়ভাই রাশেদুল ইসলাম বামহাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল বেডে আহত সেনা সদস্য রাশেদুল ইসলাম আলোকিত বগুড়া’র প্রতিবেদককে জানান, বৈঠক চলাকালে চেয়ারম্যান মেম্বার ও গ্রামের মুরব্বীদের সামনে বড় বোন মুনজিলা বেগমের সহযোগীতায় ছোট ভাই র্যাব সদস্য আহসান হাবীব আমাকে মারপিট করেছে এবং সবার সামনে পরিবারসহ আমাকে যেকোন সময় গুম করার হুমকি দিয়েছে। আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এ ব্যাপারে র্যাব সদস্য আহসান হাবীবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আলোকিত বগুড়া’র প্রতিবেদককে জানান, বৈঠকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। সে আমার বড় ভাই আমি কি তাকে মারপিট করতে পারি? বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যাথা পেয়েছে।
বিষয়টির ব্যাপারে গ্রামের লোকজন জানান, চেয়ারম্যান মেম্বারের সামনে ছোট ভাই হয়ে বড় ভাইকে মারপিট করা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা গ্রাম্য আদালতকে অবমাননা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রুবেল হোসেন জানান, আহসান হাবীব বৈঠক চলাকালে বড়ভাইকে মারপিট করে চরম বেয়াদবি করেছে। আমরা এহেন জঘন্য কাজ কখনো আশা করিনি।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়াম্যান আনিছুর রহমান আনিছ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আলোকিত বগুড়া’কে জানান, বিষয়টি ভাইয়ে ভাইয়ের ব্যাপার। এখানে নিউজের কি আছে? বলেই তিনি মোবাইল ফোনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ রিপোর্ট লেখা অবদি স্থানীয় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছিল।
Posted ১০:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০২৩
Alokito Bogura | Editor & Publisher