শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
ফজলুর রহমান বাবুর নতুন গান “চান্দে বসত কইরো কইণ্য” বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার অনুপ্রেরণা বগুড়া সদরের গোকুল মধ্যপাড়া বায়তুন নুর জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন গাবতলী প্রেসক্লাবে সাধারণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত গাবতলীতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক দিলুর জন্য দোয়া করোনায় আক্রান্ত বগুড়া-১ আসনের এমপি সাহাদারা মান্নান হাসপাতালে ভর্তি ধুনটে কিশোরী ধর্ষণ মামলার দুই সহযোগী কারাগারে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাটে যাওয়ার বাহন কেবল মাত্র ঘোড়ার গাড়ী আদমদীঘিতে করোনা সুরক্ষায় বিএনপি‘র মাস্ক বিবরণ করোনায় আরও ২৪ জনের মৃত্যু; নতুন শনাক্ত ২২৫২

বিচারের রায় বাংলায় লেখার অনুরোধ—প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক,আলোকিত বগুড়া: বিচারের রায় বাংলায় লেখার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আইনমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারের রায় বাংলায় লেখার ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা আমি চাই, আপনারা ব্যবস্থা নিন। আমি মনে করি এটা একান্তভাবে দরকার।বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নবনির্মিত ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

রায় লেখায় ব্যবহৃত অনেক শব্দ ও কথা এবং টার্ম সাধারণভাবে ব্যবহার হয় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই রায় সহজে বুঝতে পারে না। কিন্তু বাংলায় লেখা হলে কী রায় পেলো, তা বিচারপ্রার্থী নিজে দেখতে পারবে, জানতে পারবে, বুঝতে পারবে। এ ব্যাপারে যদি কোনও ফান্ড লাগে, সেটাও ব্যবস্থা করবো। কিন্তু আমি চাই, এটা যেন হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মামলার রায়গুলো কিন্তু ইংরেজিতে দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এখন হয়তো একটু লেখাপড়ার সংখ্যা বাড়ছে। তারপরও অনেক সময় অনেকে সেই রায়টা বুঝতে পারেন না। তার সহায়ক যে থাকেন তিনি যা বোঝান তাই বুঝতে বাধ্য হন। রায় যদি কেউ বাংলায় না লিখতে পারেন, তাতে আপত্তি নাই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সেটা বাংলায় ট্রান্সলেশন করে এটা যেন প্রচার হয়, সে ব্যবস্থাটা করে দিতে হবে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমি খুব প্র্যাকটিক্যাল চিন্তা করি। দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজিতে লিখতে লিখতে অনেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এখন আমি যদি ওটাকে খুব চাপ দেই বাংলায় সব লিখে ফেলতে হবে তাহলেই কিন্তু এটা থেমে যেতে পারে। কাজেই সেখানে বলবো, আর এখন ট্রান্সলেশন করা এমন কোনও কঠিন কাজ না। আর অনেক প্রফেশনাল ট্রান্সলেটরও থাকে এবং তাদের আপনারা কিছু ট্রেনিং করিয়ে নিতে পারেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে আমি অনুরোধ করবো, আপনারা একটু ব্যবস্থা নেন। কারণ এটা জুডিশিয়াল ব্যাপার। কারণ এর অনেক কথা, অনেক শব্দ, অনেক টার্ম, যেগুলো আমাদের সাধারণভাবে ব্যবহার হয় না। কিন্তু সেটা সহজভাবে যেন পারা যায়, কাজেই এই ট্রান্সলেশন করার জন্য কিছু লোককে যদি আপনারা ট্রেনিং দিয়ে দেন এবং তাদের কাজই থাকবে যেটাই লেখা হোক, সঙ্গে সঙ্গে ট্রান্সলেশন হয়ে যাবে এবং সেটাই প্রচার হবে, সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষগুলো জানতে পারবে।’

পাশাপাশি তিনি আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী এখানে আছেন। আর এ ব্যাপারে যদি কোনও ফান্ড লাগে, সেটাও আমি ব্যবস্থা করবো। কিন্তু আমি চাই, এটা যেন হয়। যাতে ট্রান্সলেশনের সঙ্গে সঙ্গে প্রচার হয়। আর এখন তো অনলাইনে চলে যাবে। আরও সুবিধা, মানুষ জানতে পারবে।ন‌্যায়বিচার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, (আমরা অনুরোধ করব) এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিন।

২০২০ সালের জুন পর্যন্ত আদালতে প্রায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেক করে তিনি বিচারক এবং আইনজীবীদের এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুততম সময়ে রায় দেওয়ার উপায় খুঁজতে অনুরোধ করেন।এত বেশি মামলা যেন না পড়ে থাকে। একটু আন্তরিক হোন এবং এই বিচারগুলো সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু করার প্রয়োজন হলে তা করা হবে, কিন্তু এতগুলো মামলা এভাবে পড়ে থাকুক তা আমরা চাই না,’ বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকার সর্বদা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যখনই আমরা ক্ষমতায় এসেছি, আমরা প্রথমে এটি নিশ্চিত করেছি, সবার জন্য ন্যায়বিচারের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি। আমরা সেভাবেই কাজ করি।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার পর তিনি এবং তার ছোট বোনের বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতিতে’ তাদের মতো কেউ যেন ভোগান্তিতে না পড়েন।

নারী ও শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য কাজ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান এবং এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০২০ (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় এটি পাস হয়েছে এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এটি তোলা হবে এবং আইন হিসেবে পাস করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আলোকিত বগুড়া সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত
error: Content is protected !!