শুক্রবার ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

২০কেজি আলু বিক্রির টাকায় মিলছেনা ১লিটার সয়াবিন তেল

সাজু মিয়া, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি   বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
105 বার পঠিত
২০কেজি আলু বিক্রির টাকায় মিলছেনা ১লিটার সয়াবিন তেল

আলু চাষ করে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। উৎপাদন খরচ উঠাতো দূরের কথা, উল্টো বিঘা প্রতি ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে আলু চাষিদের। আধা মণ (২০ কেজি) আলু বিক্রি করে কিনতে হচ্ছে এক লিটার সয়াবিন তেল। এছাড়াও ১৫ কেজি আলু বিক্রি করেও ২০০ গ্রাম নারিকেল তেল কেনা যাচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যর উর্ধ্বগতি থাকায় এবং আলু দাম কম থাকায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাজারে গিয়ে। আগামী রমজান মাস কে কেন্দ্র করে বাজারের এই উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এখন কি করবে তারা? ক্রয় করতে পারবে কি ভোজ্যতেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস!

উপজেলা কৃষি অফিসার বলেছেন, এবছর এ উপজেলায় আলুর ভাল ফলন হলেও আকস্মিক বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি বেঁধে থাকায় অপরিপক্ক আলু তুলার কারণে এবং বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে আলু সংরক্ষণ করে বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছেন তারা।


বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের আলীগ্রামের আলু চাষী মাফিজুল ইষলাম । এবার তিন বিঘা জমিতে দেশি জাতের আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। স্বপ্ন ছিল আলু বিক্রি করে জমিতে ইরি ধান রোপণ করবেন। সেই স্বপ্ন বৃষ্টিতে ভেসে যায়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুক্ষেতে পানি জমে। এরপর আলুতে পচন ধরে। বাজারেও কমে গেছে আলুর দাম।

আলু চাষি মাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বিঘা আলু চাষে যে পরিমাণ উৎপাদন খরচ হয়েছে তাতে লাভতো দূরের কথা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারণ এখন আলুর দাম নেই বললেই চলে। প্রতি মণ আলু পাইকারি বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। পরিবহন খরচ ও আড়ত খরচ বাদে ৩০০ টাকা থাকে। ২০ কেজি আলু বিক্রি করেও (১৫০ টাকা) ১৭০ টাকায় এক লিটার সয়াবিন তেল কেনা যাচ্ছে না।’


বিহার ইউনিয়নের ধামাহার গ্রামের তরুণ আলু চাষী শাহিনুর ইসলাম বলেন, এবছর ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করার পরে ফলন দেখে আশা ছিল অনেক লাভবান হবো। চলতি মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আলুতে পচন ধরে। পরে সেচ দিয়ে পানি বের করে দেওয়া হয়। এখন ৩০০ টাকা মণ আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও ক্রেতা নেই।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘১৫ কেজি আলু বিক্রি করে (১১২ টাকা) স্ত্রীর জন্য ২০০ গ্রাম নারিকেল তেল (১৩৫ টাকা) কেনা সম্ভব হয় না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী পাঁচ বছর আমি আর আলু চাষ করবো না।’


আলু চাষ করে বিপদে আছেন বলে জানান শিবগঞ্জ উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের আলীগ্রামের মাসুদ রানা । তিনি বলেন, ‘বাজারে এখন আলুর দাম-ই নেই। বৃষ্টির কারণে আলু জমিতে বেশি দিন রাখা সম্ভব হয়নি। তাই অপরিপক্ব আলু তুলে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, উল্টো প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

কৃষকরা যাতে আলুর ন্যায্যমূল্য পান সেজন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কৃষক মাসুদ রানা। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে এখনো আলুর দাম বেশি। সরকারি ভাবে আলু বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা কাঙ্খিত দাম পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আটমূল ইউনিয়নের আলু চাষী হেলাল উদ্দিন বলেন, এবছর আমাদের প্রায় ৬ বিঘা জমিতে আলু রোপন করেছি। অসময়ে বৃষ্টির কারণে আমাদের আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আলু জমিতে পচনের ভয়ে, আলু তড়িঘড়ি করে তুললেও বাজারে দাম না থাকায় চিন্তাই রয়েছি। এই আলু গুলো ষ্টোরে সংরক্ষণ করার মত উপযুক্ত নয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আল মুজাহিদ সরকার বলেন, এ বছর এ উপজেলায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টার জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে এবং বাজরে আলুর দাম নিয়ে কৃষকরা হতাশায় আছেন। আলু সংরক্ষণ করে বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা ভাল দাম পাবেন।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

Alokito Bogura। Online Newspaper |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

অস্থায়ী অফিস:

তালুকদার শপিং সেন্টার (৩য় তলা),

নবাববাড়ি রোড, বগুড়া-৫৮০০।

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

মুঠোফোন: ০১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!