বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৪৯টি স্থানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিমা তৈরীতে ঝুকে পড়ছে মৃৎশিল্পীরা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। আর এ দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাতদিন ব্যস্তসময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। পূজা শুরুর নিদৃষ্ট সময়ের আগেই মা দূর্গাকে পরিপূর্ণরুপে তুলতে হবে মন্ডপে। সেজন্য মৃৎশিল্পীরা রাতদিন ব্যস্ত প্রতিমা তৈরির কাজে। ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাঠামোর মাটির কাজ শেষ করে শুরু হয়েছে রং ও সাজসজ্জার কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় , উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লক্ষী নারায়ন শিলপাড়া সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরে দেবীদূর্গা ও তার বাহক শিংহের প্রতিমাসহ তৈরি করা হয়েছে মহিষাসুরের প্রতিমা। এছাড়াও দেবী লক্ষী, সরস্বতি, দেব কার্তিক, গনেশ ও তাদের বাহক ইদুর, হাস আর ময়ূর। সবার উপরে রেখেছে মহাদেবের প্রতিমা, সর্বক্ষণ প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্তসময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা।
এই মন্দিরে মৃৎশিল্পী তরুন চন্দ্র দাস জানান, গতকয়েক মাস ধরে তারা দেবীদূর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। শুধু জীবিকার জন্য নয় দেবী দুর্গার প্রতিমার মূর্তি তৈরিতে রয়েছে তাদের শিল্প সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভুতি ভক্তি আর ভালোবাসা।
মৃৎশিল্পী তরুন আরো বলেন, দূর্গোউৎসব উপলক্ষে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২টি প্রতিমা তৈরি করেন তিনি কিন্তু এবার উপজেলার মোট ৮টি পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন বলে জানান।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে পূজার মুল আনুষ্ঠানিকতা। তাই দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে দেবী দূর্গা আগমনের প্রহর গোনা চলছে মন্ডপ তৈরির সাজসজ্জার কাজ।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার গুপ্তর কাছ থেকে জানা যায়, এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদোর মাঝে দুর্গোৎসবকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই গত বছর ৪৯টি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারও ৪৯টি পুজা মন্ডবে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের আমেজ একটু বেশি থাকবে এমনটাই মনে করেন তিনি।
এবার উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৪৯টি স্থানে এ পূজা উৎযাপন হতে যাচ্ছে। পৌর এলাকায় ৯টি, সদর ইউনিয়নে ৫টি, বালুয়া ইউনিয়নে ২টি, দিগদাইড় ইউনিয়নে ১২টি, জোড়গাছা ইউনিয়নে ৮টি, মধুপুর ইউনিয়নে ৭টি, তেকানী চুকাইনগরে ৩টি ও পাকুল্লা ইউনিয়নে ৩টি পূজা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি অসীম কুমার জৈন নতুন।
পূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এছাড়াও আগে থেকেই প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে বিট অফিসার মনিটরিং করছে বলে জানান থানা অফিসার ইনচার্জ সৈকত হাসান। তিনি আরও জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরার আওততায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সার্বক্ষনিক আনসার সদস্য দায়িত্ব পালনে থাকবে।
আ/ব/আব্দুর রাজ্জাক
Posted ১:০৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
Alokito Bogura। আলোকিত বগুড়া | MTi SHOPON MAHMUD