বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সারিয়াকান্দির হাটে হাটে গড়ে উঠেছে নেপিয়ার ঘাসের বাজার

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি   সোমবার, ১৪ জুন ২০২১
96 বার পঠিত
সারিয়াকান্দির হাটে হাটে গড়ে উঠেছে নেপিয়ার ঘাসের বাজার

সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন হাটে নেপিয়ার ঘাসের বেচা-কেনার জন্য বাজার গড়ে উঠেছে। যার কারনে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে গরু পালনের জন্য কাঁচা ঘাস। এই ঘাস বেচা-কেনা করে একদিকে যেমন অনেক বেকার পরিবার কর্মসংস্থান খুজে পেয়েছেন, তেমনি গরু লালন-পলনের ক্ষেত্রে কাঁচা নেপিয়ার ঘাস বাজার থেকে কিনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। লাভবান হচ্ছেন গরুর মালিকরা।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের লোকজনেরা ব্যাপক ভাবে গরু-মহিষ পালন করে থাকেন। উপজেলার কমপক্ষে ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী গরু-মহিষ পালন করেন। এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর বাড়িতে ২ বা ততধিক বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। আবার কেউ বা গড়ে তুলেছেন গরুর ছোট-বড় খামার। এসব খামারে গরু-মহিষ লালন-পালনের জন্য প্রতিদিন অনেক পরিমাণ গো-খাদ্যের প্রয়োজন হয়ে থাকে। শুকনা খাবার অর্থাৎ ধানের খড় গো-খাদ্য হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকলেও দৈনিক একবার হলেও গরু-মহিষকে কাঁচা ঘাস দেওয়া চাই। দুধালো গাভীর জন্য নেপিয়ার কাঁচা ঘাসের ভূমিকা সর্বাগ্রে। দুধালো গাভী যেমন সুস্থ্য ও সবল থাকে তেমনি দুধ প্রদানের ক্ষেত্রে কাঁচা ঘাস গাভী লালন-পালনে ক্ষেত্রে দুধ বাড়ায় গাভীর মালিকদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে ওঠে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় কমপক্ষে ১ লক্ষ, ২০ হাজার বিভিন্ন শ্রেণির গরু রয়েছে। এছাড়াও মহিষ রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। এই গরু-মহিষের জন্য দৈনিক ৬৭০ মেট্রিক টন কাঁচা ঘাসের দরকার পরে। উপজেলায় প্রায় ৮’শ একর জমিতে গো-চারণভূমি রয়েছে। গরু-মহিষরা সরাসরি ঐ চারণভূমি থেকে কাঁচা ঘাস খেয়ে থাকে।

প্রাণী সম্পদ অফিস আরো জানায়, ২/৩ বছর আগেও এ ঘাসের চাহিদা কম থাকলেও এখন এর চাহিদা ৩ গুণ বেড়ে গেছে। এ ঘাসের চাহিদা বাড়ায় অনেকেই জমির আইল, পুকুরের পার, পতিত জমি, বাঁধ ও রাস্তার পার্শ্বে ও চর এলাকায় এই নেপিয়ার ঘাষ চাষ করে থাকেন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের তৎপরতায় নেপিয়ার ঘাসের উৎপাদন বর্তমানে বহুলাংশে বেড়ে গেছে। যার করনে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটে হাটে ঘাসের বাজার গড়ে উঠেছে। উপজেলার হাটফুলবাড়ী, সারিয়াকান্দি সদর, কড়িতলা, হাসনাপাড়া, দেবডাঙ্গা ও জোড়গাছা হাটে রিতিমত অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মতোই ঘাসের বাজার বসে বাজার গুলোতে বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলছে ঘাসের বিকিকিনি। এসব বাজার থেকে গরুর মালিকদের বিকেল হলেই ঘাস কেনা চাই। ঘাস কেনা না হলে গরুর মালিকদের সংসার যেন চলেই না।

উপজেলার হাটফুলবাড়ীর ঘাস ব্যবসায়ী মইফুল হোসেন জানান, বাপের জমি-জমা নেই, বাজারে ঘাসের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঘাস ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়েছি। ব্যাবসা করে দুই সন্তান স্ত্রীকে নিয়ে ভালই চলছে আমার সংসার।

সদর ইউনিয়নের ধাঁপ গ্রামের মন্তেজার রহমান বলেন, আমার পালে তিনটি গরু রয়েছে, এরমধ্য ২টি গাভী গরু। কাঁচা ঘাস গরুর মুখে না দিলে দুধ হয়না। এ জন্য প্রতিদিন আমাকে এই নেপিয়ার ঘাস কিনতে হয়।

সারিয়াকান্দি হাসপাতালের চাকুরী করেন খোরশেদ আলম। ৩টি গরু পালন করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি অন্য কোথাও থেকে গরুর খাবারের জন্য কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করতে পারিনা। বাধ্য হয়ে অফিস শেষে বাড়ী ফেরার পথে গরুর জন্য ঘাস কেনা চাই-ই।অপরদিকে সারিয়াকান্দি হাটের ঘাস বাজারের ইজারাদার জালাল উদ্দিন প্রাং বলেন, এই বাজারে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার ঘাস বেচা-কেনা হয়। এ ছাড়াও হাটফুলবাড়ী, কড়িতলা হাটে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ঘাস কেনা-বেচা হয় প্রতিদিন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা: মো: নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ উপজেলায় পূর্বে ঘাসের এত চাহিদা ছিলোনা। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাড়ী বাড়ী গরু পালনে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। এজন্য এই গরুগুলো সুস্থ্য-সবল ও দুধ বেশি করতে কাঁচা ঘাস নেপিয়ারের তুলনা হয় না বলেই দৈনন্দিন হাটে ঘাসের বাজার বসে। এ ছাড়াও ঘাসের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলার গরু লালন-পালনকারীরা সারিয়াকান্দি বাজার থেকে ঘাস ক্রয় করছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০ ৯১১৮৪৫, ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!