রবিবার ৩রা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সারিয়াকান্দির সাহাপাড়ায় কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত অর্ধ-শতাধিক পরিবার

জাহাঙ্গীর আলম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি   মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১
73 বার পঠিত
সারিয়াকান্দির সাহাপাড়ায় কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত অর্ধ-শতাধিক পরিবার

বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌরসভা এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবার কুমড়ো বড়ি তৈরি করে সংসার চালায়। শীতকাল এলেই কুমড়ো বড়ি তৈরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পরেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের এ ব্যস্ততা চলে ছয় মাস ধরে। শেষ রাত থেকে শুরু করে সারাদিন চলে এই ব্যস্ততা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড স্থানীয়দের কাছে হিন্দুপাড়া হিসেবে পরিচিত। এপাড়ার বেশিরভাগ অধিবাসী হিন্দু হওয়ায় সাহাপাড়া নামে এটি পরিচিত পৌরবাসীদের কাছে। এ পাড়ার অধিকাংশ মানুষের নেই কোন জমি-জমা। বিভিন্ন রকমের ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।


শীতকাল এলেই শুরু হয় কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ। কার্তিক মাস থেকে শুরু হয়ে চলে তা ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। তারা জানান, এই মৌসুমে কুমড়ো বড়ির চাহিদা বাড়ে। উপজেলার হাটে-বাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে এ কুমড়ো বড়ি। এছাড়াও অনেকেই অর্ডার দিয়ে তৈরি করে নেন আমাদের কাছ থেকে। তারা তা নেওয়ার পর পাঠান ঢাকাসহ স্বজনদের বাসা-বাড়ী। কেউ বা আবার পাঠান বাহিরের বিভিন্ন দেশে থাকা স্বজনদের কাছে।

সন্ধাবেলা যাতাকলে প্রধান উপকরন মাসকলাই ছেটে নেওয়ার পরেই পানিতে ভেজানো হয়। শেষ রাতের দিকে ভেজা মাসকলাই শিল-পাটায় বাটা হয়। তারপর সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথেই সাদা কাপড়ের উপর এক এক করে তৈরি করা হয় কুমড়ো বড়ি এবং তা দুই-তিন দিন রোদে শুকানো হয়। তারা জানান, সকাল ৯টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ। এক একজন মানুষ এভাবে তৈরি করতে পারেন ৫থেকে ৬কেজি পরিমাণ মাস কলাইয়ের কুমড়ো বড়ি।


সাহাপাড়া গ্রামের ডলি রাণী সাহা আলোকিত বগুড়াকে বলেন, আমার স্বামীর নাম ছিলো নিখিল চন্দ্র সাহা। তিনি মারা গেছেন চার বছর আগে। এক ছেলে দুই মেয়ে সংসারের ঘানী টানতে আমাকে এ কুমড়ো বড়ি তৈরি ব্যবসা বেঁছে নিতে হয়েছে। তৈরি করার পর পাইকাররা এসে বাড়ী থেকে এসে ক্রয় করে নিয়ে যায় এবং তারা তা হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আতপ চালের আটা মিশ্রিত কুমড়ো বড়ি বর্তমানে দেড়শ টাকা কেজি আর ভেজাল মুক্ত কুমড়ো বড়ি প্রায় তিনশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। পাড়ায় প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক জড়িত এ কুমড়ো বড়ি তৈরির
কাজে।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মতিউর রহমান মতির সাথে কথা হলে তিনি আলোকিত বগুড়াকে বলেন, তাদের জীবন-জীবিকা বড়ই সংগ্রামী। ছোট-খাট ব্যবসা করে তাদের দিন চলে যায়। কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে তা মানসম্মত তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করতে পারতো। সুযোগ পেলে আমার পক্ষ থেকে তাদের জন্য সহযোগীতা করা হবে।


Facebook Comments Box

Posted ৯:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১

Alokito Bogura। Online Newspaper |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

অস্থায়ী অফিস:

তালুকদার শপিং সেন্টার (৩য় তলা),

নবাববাড়ি রোড, বগুড়া-৫৮০০।

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

মুঠোফোন: ০১৭ ৫০ ৯১ ১৮ ৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!