সোমবার ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সারিয়াকান্দিতে ১০বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা চায়না বেগম পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা

জাহাঙ্গীর আলম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি   মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১
108 বার পঠিত
সারিয়াকান্দিতে ১০বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা চায়না বেগম পাচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ভাতা

বগুড়ার সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়নের মাঝিরাচরের চায়না বেগম(৪২)। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে অন্তত ১০বছর আগে। এখন তিনি থাকেন বাবার বাড়িতে। অথচ চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতাবলে তাকে করে দিয়েছেন মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড। তার ভতিজার স্ত্রীকেও মাতৃত্বকালীন ভাতার সরকারি কার্ড করে দিয়েছেন তিনি। ভাতিজার স্ত্রীও সর্বশেষ ১২বছর আগে গর্ভবতী ছিলেন। ঘটনা জানাজানি হলে এভাবে ভাতা দেওয়ার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন সারিয়াকান্দির বোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ।

গত সোমবার (৩১ মে) উপজেলার কড়িতলা বাজারে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় ওই দুইজন নারীর ভাতার টাকা তুলতে আসলে জনতার তোপের মুখে পড়েন চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ । তখন থেকেই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

alokitobogura.com

প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বোহাইল ইউনিয়নের চর মাঝিরা গ্রামের চায়না বেগম দশ বছর পূর্বে একই চর গ্রামের ইমদাদুল হকের সাথে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে। সে থেকে চায়না একাই বাবা মোজা প্রাং এর বাড়িতে বসবাস করেন। তবে গত ছয় মাস পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার নামে একটি মাতৃত্ব কালিন ভাতাকার্ড করে দেওয়া হয়।

এছাড়াও একই ইউনিয়নের বেহাইল চরের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী মিনতি বেগম কে গর্ভবতী না হলেও মার্তৃৃত্বকালীন ভাতাকার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তার সর্বশেষ ছেলে সন্তানের বয়স প্রায় ১২ বছর। এই মিনতি বেগম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এর বড় ভাই সাহাদাত হেসেন (সাদা) ছেলে আলমগীর এর স্ত্রী। এলাকায় অনেক গর্ভবতী নারী থাকলেও তাদেরকে বঞ্চিত করে অজ্ঞ্যাত কারনে তাদের নামে গর্ভবতী ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।

বোহাইল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রহিমা বেগম, সাহিদা বেগম ও নাছিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে পরিষদের সমন্বয় সভা করে চর এলাকার ৬০জন গর্ভবতীর নামে ভাতাকার্ড করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ স্বামী পরিত্যাক্তা ও নিজের ভাতিজা বৌকে ভাতাকার্ড করে দেওয়ায় আমরা খুবই লজ্জিত। চরের প্রকৃত গর্ভবতী নারীদের নাম বাদ দিয়ে তাদের নাম দেওয়ায় আমরা এর সঠিক তদন্তের দাবি জানাই।

প্যানেল চেয়ারম্যান ও ১ নং ওয়ার্ড সদস্য বাদশা আকন্দ ও ২ নং ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের ও মহিলা সদস্যদের ২টি করে গর্ভবতী নারীর নাম দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু চেয়ারম্যান কারই কথা রাখেননি। তিনি মনগড়া ভাবে গর্ভবতী মহিলাদের নামের তালিকা তৈরি করেছেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ আলোকিত বগুড়ার প্রতিনিধিকে বলেন, আমি সবার মতামত নিয়ে তালিকা করেছি। যাদের নামের কথা বলা হচ্ছে অর্থাৎ আমার ভাতিজা বৌ মিনতি বেগম ও স্বামী পরিত্যাক্তা চায়না বেগম এর নাম আমার অজান্তে তালিকায় উঠেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো: রাসেল মিয়া আলোকিত বগুড়ার প্রতিনিধিকে বলেন, এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে এবং ঘটনার সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক :

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

প্রকাশক: তৃষা মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০ ৯১১৮৪৫, ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com (নিউজ)

ইমেইল: mtishopon@gmail.com (বিজ্ঞাপন)

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!