শুক্রবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সারিয়াকান্দিতে সময়মত দেওয়া হয়নি প্রনোদনার মরিচের বীজ-সার

জাহাঙ্গীর আলম, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি   শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১
94 বার পঠিত
সারিয়াকান্দিতে সময়মত দেওয়া হয়নি প্রনোদনার মরিচের বীজ-সার

সারিয়াকান্দিতে কৃষকদেরকে মরিচ চাষে উৎসাহ উদ্দিপনা বাড়ানোর জন্য চাষীদের মরিচের বীজ ও সার সময়মত দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে। অসময়ে মরিচ চাষীদের বীজ ও সার দেওয়ার কারনে দরিদ্র কৃষকরা অর্থের অভাবে মরিচের পরিবর্তে অন্য ফসলের চাষ করতে বাধ্য হয়েছেন। এ জন্য মরিচ চাষের জমির পরিধী বাড়েনি বরং কমেছে। মরিচ চাষীরা বলছেন, কর্মকর্তারা আমাদের সাথে প্রনোদনার নামে প্রহসন করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় মরিচ চাষী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার মরিচের খ্যাতি দেশজুড়ে। তবে এই মরিচের সিংহভাগ উৎপাদন হয়ে থাকে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায়। এ উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নের সবখানে কম-বেশি উৎপাদন হয়ে থাকলেও যমুনা ও বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে উর্বর পলি মাটিতে সবচেয়ে বেশি মরিচ চাষ করে থাকেন চাষীরা। মরিচ চাষ করে কোটি কোটি টাকা আয় করে থাকেন এ এলাকার চাষীরা। যে কারনে চাষীদের কাছে মরিচ চাষ একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। এজন্য প্রতি বছর মরিচ চাষের জন্য এ উপজেলার চাষীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগে যায়।

alokitobogura.com

মরিচ চাষের পরিধী বাড়ানের জন্য চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ১০০ জন কৃষকের মধ্য ৩০০ গ্রামে বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়ার কথা। চলতি মৌসুমের অক্টোবর মাসে কৃষকদের মধ্যে ওই পরিমাণ মরিচ-বীজ দেওয়ার কথা। কারন এ মাসের মধ্যে মরিচ বীজ জমিতে বপন করতে না পারলে কোন রকমের ফলনই আশা করা যায় না। তার পরেও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জেনে-শুনে অজ্ঞাত কারনে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রনোদনার বীজ-সার দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এজন্য অনেক দরিদ্র কৃষকই এ মৌসুমে মরিচ চাষ করতে পারেনি। তারা বাধ্য হয়ে অন্য ফসলের চাষ করেছেন।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর এ উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হলেও এ বছর চাষ হয়েছে, সেখানে ৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৩ শত হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ কম হয়েছে।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতমারা চরের দুদু মন্ডল বলেন, আমিত এমনিতেই গরীব চাষী তার মধ্য গত বন্যায় পাট ও আউস ধানের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি আরো আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পরি। মরিচ চাষ করতে অনেক নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। অতীতের বছরগুলোতে দুই-তিন বিঘা করে জমিতে মরিচের আবাদ করলের অর্থের অভাবে এবার তা করতে পারিনি। মরিচ চাষ করতে না পেরে আর্থিকভাবে এবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

কাজলা ইউনিয়নের ময়ুরের চরের কৃষক মোখলেছার রহমান বলেন, পূর্বের বছরগুলোতে তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। এবার সেখানে করেছি দুই বিঘা। ভুট্টা চাষে প্রনোদনার বীজ ও সার পেলেও মরিচ চাষে আমি পাইনি। আমাদের চরে অন্য কেউ পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই। এছাড়াও সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার জুয়েল শেখ বলেন, সরকারী মরিচের বীজ-সার কে পেছেয়েন আমি জানিনা। আর্থিক দৈনতার কারনে ভালোমতে মরিচ চাষ করতে পারিনি।

ফুলবাড়ী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মরিচ চাষী আনছার আলী বলেন, আমি এবার ১৫ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছি। শুনেছি কৃষি অফিস থেকে মরিচ চাষে কৃষকদেরকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বীজ-সার দেওয়ার কথা থাকলেও আমি নেইনি। কারন মরিচের বীজ বপনের সঠিক সময় ভাদ্র মাসের মাঝা-মাঝী সময় থেকে আর্শ্বিন মাসের মধ্য। কিন্তু তারা সার-বীজ দিয়েছে কার্তিক-অগ্রাহায়ন মাসে। ফসল হবেনাতো, আমরা এসময়ে বীজ-সার নিয়ে কি করবো?

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম প্রনোদনার মরিচের বীজ-সার সময়মতো না দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার কী করার আছে? টেন্ডারের মাধ্যমে বীজ-সার ক্রয় করতে সময় লাগে। যে কারনে ডিসিম্বের মাসের মধ্যে বিতরণ করতে হয়েছে।

Facebook Comments

Posted ৯:০৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক :

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

প্রকাশক: তৃষা মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০ ৯১১৮৪৫, ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!