বুধবার ৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সারিয়াকান্দিতে প্রনোদনার পেঁয়াজ বীজ না গজানোয় চাষীদের মাথায় হাত

জাহাঙ্গীর আলম, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি   রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১
68 বার পঠিত
সারিয়াকান্দিতে প্রনোদনার পেঁয়াজ বীজ না গজানোয় চাষীদের মাথায় হাত

সারিয়াকান্দি কৃষি অধিদপ্তর হতে বিনা মূল্যে বিতরণ করা প্রনোদনা বীজ গজায়নি। বাজার থেকে নিম্ন মানের বীজ ক্রয় করার পর চাষীদের মধ্যে বিতরণ করার কারণে চলতি মৌসুমে চাষীদের জমিতে পেঁয়াজের বীজ না গজানোর অভিযোগ উঠেছে। এ দিকে বীজ না গঁজানোয় এ মৌসুমে পেঁয়াজ চাষীদের মাথায় হাত পরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কে পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে এবার দুই দফায় পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করা হয়। প্রথম দফায় ২৫০গ্রাম করে ৩০০জন কৃষকদের মধ্য পেঁয়াজ বীজ দেওয়া হয়। বিতরণের তারিখ ছিলো গত বছরের ৩০ নভেম্বর। এ বীজের মান খুবই ভালো থাকায় জমিতে বপনের পর ভালো গজিয়েছে। অপর দিকে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্য বিতরণ করা হয় ২য় দফার পেঁয়াজ বীজ।

alokitobogura.com

উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৫০জন কৃষকের মধ্য প্রত্যককে ৭৫০গ্রাম করে এই পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করা হয়। এর সাথে দেওয়া হয় ২০কেজি ড্যাপ ও ১০কেজি এমওপি সার। এই পরিমাণ পেঁয়াজ বীজ দিয়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়। কিন্তু এ বীজ জমিতে ঠিকঠাক মতো বপন করা হলেও কোন পেঁয়াজ বীজ গজায়নি।

সংশ্লিষ্ট চাষীরা বলেছেন, প্রথম দফায় পেঁয়াজ বীজের মান ভালো থাকলেও দ্বিতীয় দফায় বীজের মান ভালো ছিলনা। চাষীরা অভিযোগ করে বলেছেন, অধিক লাভের আশায় কৃষি অফিসের লোকজন নিম্ন মানের বীজ বাজার থেকে ক্রয় করে তা বিতরণ করায় আমাদের পেঁয়াজ চাষে এ মৌসুমে এ হাল হয়েছে।

কাজলা ইউনিয়নের কটাপুর গ্রামের চাষী মতিন খাঁ, ইব্রাহিম শেখ, মিনাল বাদে ও রইচ ব্যাপারী সহ ১০ জন পেঁয়াজ চাষী সমস্বরে বলেন, আমরা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রত্যেকে ৭৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ বীজ আনার পর চরের জমিতে বপন করেছিলাম। আমাদের পাশের জমিতে চাষীরা বাজার থেকে বীজ কিনে বপন করছে। সে বীজ গুলো জমিতে গজিয়ে তরতর করে পেঁয়াজের গাছ বেড়ে উঠছে। আমরা ভেবে ছিলাম সরকারী বীজে ভালো ফলন পাবো, কিন্তু ফলন তো দূরের কথা কোন বীজই গজায়নি। এখন আমাদের জমি গুলো পতিত পরে আছে। অন্য কোন ফসল করার সময় এখন নেই বলে এক ফসল মারতি গেলো। আমরা গরিব কৃষক বর্গা জমি নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। এখন এ অবস্থায় আমরা কি করবো ভেবে কোন কুলকিনারা পাচ্ছি না। এটাই ছিলো আমাদের কপালে।

কাজলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার বলেন, ওরা চরের গরীব অসহায় চাষী আমার নিজের ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করেছিল। কিন্তু বীজের মান ভালো না থাকায় তা গজায়নি। এখন তারা হাহুতাস করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের বলার পর তারা সরজমিনে এসে পেঁয়াজের ওই সব জমি দেখে গেছেন। এই নিয়ে চরের কৃষকদের মধ্য অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরুত-ই-খুদা বলেন, আমরা গাজীপুর কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন পেঁয়াজের বীজ বপনের পর জমিতে ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রী তাপমাত্রা থাকার দরকার ছিলো। এ মৌসুমে সেখানে ৬থেকে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠা নামা করায় পেঁয়াজের বীজ ভাল গজায়নি। এছাড়াও বীজে পরাগায়নের সময় ঠিক মতো পরাগায়ন না ঘটার কারণে বীজে সমস্যা হতে পারে।

এ ব্যাপেরে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, পেঁয়াজের বীজের মান ভাল ছিলো। তাছাড়াও এই সমস্যা তো কেবল আমাদের এখানে না। খোঁজ খবর নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সমস্যা হয়েছে। এ এলাকার কৃষকরা দেরীতে পেঁয়াজ বীজ বপন করার কারণে তা ঠিক মতো গজায়নি।

Facebook Comments

Posted ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

Alokito Bogura। আলোকিত বগুড়া |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

সম্পাদক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

প্রকাশক: তৃষা মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০৯১১৮৪৫, ০১৭৩৮৬৪৫৮৬০

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বিজ্ঞাপন: ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!