সোমবার ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সারিয়াকান্দিতে অসময় যমুনার ভাঙ্গন শতাধিক পরিবার গৃহহীন; অজানা আতঙ্কে হাজারো মানুষ

মাইনুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার   বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১
235 বার পঠিত
সারিয়াকান্দিতে অসময় যমুনার ভাঙ্গন শতাধিক পরিবার গৃহহীন; অজানা আতঙ্কে হাজারো মানুষ

সারিয়াকান্দির কামালপুর ইউনিয়নের রৌহদহ থেকে শুরু করে ইছামারা এলাকায় যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গণ শুরু হয়েছে। শুঙ্ক মৌসুম বা অসময়ে এ ভাঙ্গনের কারণে এরই মধ্য প্রায় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পরেছেন। এ ভাঙ্গনে একদিকে যেমন ডানতীর রক্ষা প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে অন্যদিকে যমুনা পাড়ের হাজারো মানুষ অজানা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ওই এলাকার ২০১৫ সালে ৩১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর ৫.৯কিলোমিটার ডানতীর সংরক্ষণসহ ৮কি.মি. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিমার্ণ শির্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৩২ কোটি টাকা করা হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল অত্র এলাকাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়াও সাড়ে আট হাজার হেক্টর কৃষি জমি রক্ষা। এছাড়াও ১২শ ৩১ কোটি টাকার সরকারী-বেসরকারী সম্পদ রক্ষা করার জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালের মধ্য তা বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারগণ যোগসাজস করে ভাল মানের কাজ করা হয়নি। এরই মধ্য ওই প্রকল্প এলাকার ব্যাপক ভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

alokitobogura.com

অসময় ও শুষ্ক মৌসুমে ভাঙ্গনের কারণে স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটির প্রায় দেড় কিলোমিটারের মধ্য কামালপুর, ফকিরপাড়া, ইছামারা, টিটুরমোড় ও গোদাগালী এলাকায় ভাঙ্গনের কারণে বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের ৬০০ মিটার এরই মধ্য যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ভাঙ্গনের কারণে ৭/৮দিনের মধ্য ওই সব এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার বাড়ি-ঘর অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ সড়াতে পারছেন না তারা জানান, নদী ভাঙ্গা ও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ হওয়ার কারণে হাতে এখন কোন টাকা-পয়সা নেই। যার কারণে বাড়ি-ঘর অন্যত্র স্থানান্তর করতে পারছি না।

ভাঙ্গন কবলিত কামালপুর গ্রামের আব্দুল রশিদ, দলু আকন্দ, পিয়ারা বেওয়া বলেন, কদিন আগে হটাৎ করে মধ্য রাতে যমুনা নদীর পাড়ে খুব জোড়ে শব্দ হয়। এরপর ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখি যমুনা নদী ভাঙ্গছে। আমাদের মধ্যে ভয় ধরে গেল। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত রাত হলেই ভাঙ্গনের ভয়ে জেগে থাকি।

কাশেম মন্ডল বলেন, এ পর্যন্ত তিন বার ভাঙ্গনের কারণে এই নদী পাড়ে বাড়ি করে আছি। ভাঙ্গনের কারণে আশপাশের লোকজন ঘর-দোর অন্যত্র সড়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু আমি নিয়ে যেতে পারিনি। কারণ আমার পেট চলছে না। ঘর-দোর সরানোর টাকা আমি কোথাই পাব।

অপরদিকে কামালপুর ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, এখানে শুঙ্ক মৌসুমে খুবই ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ সময়ে এমন ভাঙ্গন আমি আগে কখনো দেখিনি। নজীরবিহীন এ ভাঙ্গনে কামালপুর ইউনিয়নের লোকজন এখন ভীতসন্তসত হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ি-ঘর বিলীন হয়েছে। এসব বাড়ি-ঘর পাশ^বর্তী হাওড়াখালী বাঁধের উপর সড়িয়ে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারিয়াকান্দি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) আব্দুর রহমান তাসকিয়া আলোকিত বগুড়া’র প্রতিনিধিকে বলেন, প্রকল্প এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এটা আমরা জানি। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বালু ভর্তি জিও বস্তা ফেলে অস্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন রোধের খুব শীঘ্রই কাজ করা হবে। এছাড়াও সিসি ব্লক ফেলে স্থায়ী ভাঙ্গন রোধের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেটি মন্ত্রী সভার একনেকের বৈঠকে পাশ হলে স্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে আমরা আশা করছি।

Facebook Comments

Posted ১:৩৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১

Alokito Bogura। আলোকিত বগুড়া |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

সম্পাদক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

প্রকাশক: তৃষা মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০৯১১৮৪৫, ০১৭৩৮৬৪৫৮৬০

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বিজ্ঞাপন: ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!