সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শেরপুরে কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের হিড়িক; হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, আলোকিত বগুড়া   রবিবার, ০৯ মে ২০২১
147 বার পঠিত
শেরপুরে কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের হিড়িক; হুমকির মুখে জীব বৈচিত্র

‘জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা যাবে না’ সরকারি এমন নির্দেশ থাকলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের তিন ফসলি কৃষি জমি ও জীব বৈচিত্র রক্ষাময় বিল থেকে মাটি তুলে পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুরে। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

এক শ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ফসলি জমিতে পুকুর খননের লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছেন। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের কৃষি জমিতে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ৮ ফুটেরও বেশী গভীর করে জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের এই মহোৎসব চলছে। দিনরাত বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সহ ইটভাটায় সরবারহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন এক শ্রেণির প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীরা। উপজেলা প্রশাসন দুই একটিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলেও অধরাই থেকে যাচ্ছে প্রায় ৩০ টিরও বেশি মাটি কাটার পয়েন্ট।


সরেজমিনে উপজেলার বিভন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিন ফসলি জমি ও জীব বৈচিত্র রক্ষাকারী বিল খনন করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি এক শ্রেনীর মাটি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ^র গ্রামে মুঞ্জিল, ধাওয়াপাড়া গ্রামে জাহিদুল, টুনিপাড়া গ্রামে নজরুল, দক্ষিন আমইন গ্রামে বাদশা, বোর্ডের হাট, গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুড়া গ্রামে আয়ুব আলী নামের প্রভাবশালী ও খামারকান্দি ইউনিয়নের জীব বৈচিত্র রক্ষাকারী বড়বিলা বিল, খানপুর ইউনিয়নের ভস্তা বিল, শুবলী, চৌবাড়িয়া, বোয়ালকান্দি, ভীমজানি, মির্জাপুর ইউনিয়নের রাজবাড়ী, বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইল সহ প্রায় ৩০ টিরও বেশি মাটি কাটার পয়েন্টে চলছে মাটি বিক্রির মহোৎসব।

এতে মাটি বহনের জন্য গ্রামীন জনপদ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি হুমকির মুখে পরেছে পরিবেশও। আগে যেখানে অতিথি পাখিরা বিচরণ করতো সেখানে মাটি কেটে গভীর পুকুর খনন করায় বিলীনের পথে জীব বৈচিত্র।


উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে পুকুর খনন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১৫ টি পয়েন্টে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন। এতেও বন্ধ হচ্ছেনা মাটি বিক্রিরর মত জঘন্য কাজ। আবার অনেকেই বলছেন কতিপয় কিছু মাটি কাটার পয়েন্টে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করলেও অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হচ্ছেনা মাটি খেকোদের দৌড়াত্ব। এতে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনকে।

এ ব্যাপারে কাফুড়া গ্রামের মাটি বিক্রেতা আয়ুব আলী বলেন, আমার পুকুরে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি। অথচ শুবলীর আব্দুল লতিফ নামের এক ব্যাক্তি প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে দিনে ও রাতে মাটি বিক্রি করছে। সেখানে কোন ভ্রাম্যমান আদালত নেই। তাহলে আমরা এখন কি ভাবতে পারি।


এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. শারমিন আকতার বলেন, কোন ভাবেই জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা যাবে না’ মর্মে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার জন্য। এছাড়াও কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. সাবরিনা শারমিন বলেন, পুকুর খননের অভিযোগ পেলে বা খবর পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Facebook Comments Box

Posted ৭:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৯ মে ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

“ঈদ মোবারক”
“ঈদ মোবারক”

(498 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭ ৫০ ৯১ ১৮ ৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!