বৃহস্পতিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শেরপুরে টিআর প্রকল্পে্র অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

এম.এ রাশেদ, আলোকিত বগুড়া   মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
44 বার পঠিত
শেরপুরে টিআর প্রকল্পে্র অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) কর্মসুচীর কাজে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ টিআর প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। কাগজে কলমে কাজ দেখানো হলেও বাস্তবচিত্র ভিন্ন। যেন কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই অবস্থা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে ‘আমি ও আমার অফিস দুর্নীতিমুক্ত’ শ্লোগান সাঁটানো থাকলেও চলছে দুর্নীতির মহোৎসব।

শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে,২০২০-২১ অর্থ বছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় ১ম কিস্তির এলাকা ভিত্তিক ৪৫ টি প্রকল্পে মোট ২৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৩ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া উপজেলাওয়ারী প্রথম কিস্তির ২২ টি প্রকল্পে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাগজে কলমে এসব কাজের বাস্তবায়ন সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজ না করে সরকারি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

alokitobogura.com

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি দূর্গামন্দির সংস্কারের জন্য দুটি আলাদা বরাদ্দে ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও এক টাকার কাজও হয়নি। মন্দির কমিটির নেতা শ্রী সনাতন চন্দ্র জানান, মন্দিরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে শুনেছি কিন্তু কোন কাজ করা হয়নি। একই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সুভাস চন্দ্র জানান, এখনো কোন কাজ করা হয়নি। কিছু টাকা আছে যা দিয়ে আমরা মন্দিরের নামে জায়গা কিনবো ভাবছি। খানপুর ইউনিয়নের কয়েরখালী হাটের পশ্চিমপার্শ্বের কবরস্থান সংস্কারের জন্য ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকা বরাদ্দ হলেও কবরস্থান সংস্কারের কোন কাজই হয়নি।

সুঘাট ইউনিয়নের ফুলজোড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে প্রকল্পের টাকায় কোন কাজই হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বেল্লাল হোসেন জানান, বরাদ্দ ৯০ হাজার টাকা হলেও পেয়েছি ৩০ হাজার টাকা। তাই দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেছি। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জানিয়েও লাভ হয়নি। অফিস থেকে বলা হয়েছে সভাপতির সাথে সমন্বয় করে কাজ করেন।

এ ছাড়া ঘোড়দৌড় মাদ্রাসার অফিসরুম টাইলসকরণ প্রকল্পে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শেরপুর উপজেলা অফিসার্স ক্লাব সংস্কারে ৯০ হাজার টাকা, খন্দাকারপাড়া লক্ষী ও কালীমন্দির সংষ্কারের জন্য ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বরাদ্দের সিংহভাগ টাকার কোন কাজই হয়নি। ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে নামমাত্র কাগজে কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে এসব প্রকল্পের সিংগভাগ টাকাই আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহার শিউলী জানান, প্রথম পর্যায়ের টিআর প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাজগুলো হচ্ছে কি না তা আমরা দেখার চেষ্টা করছি। তবে এসব কাজে কোন অনিয়মের অভিযোগ এখনো পাননি বলে তিনি জানান।

এসব বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

Facebook Comments

Posted ৫:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮

সম্পাদক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

প্রকাশক: তৃষা মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০৯১১৮৪৫, ০১৭৩৮৬৪৫৮৬০

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বিজ্ঞাপন: ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!