সোমবার ৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

যমুনার পানি বিপৎসীমার উপরে; বন্যা আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   শনিবার, ১৮ জুন ২০২২
30 বার পঠিত
যমুনার পানি বিপৎসীমার উপরে; বন্যা আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। এ কারণে জেলার কাজিপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জ পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার খুব কাছে থাকায় জেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক শুরু হয়েছে। দ্রুত যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে প্রতিদিনই নদীর তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে বাঁধভাঙা ও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি গত ১২ ঘন্টায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ১২ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


জানা যায়, পানি বৃদ্ধির কারনে জেলার অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, ইছামতি, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসগরসহ অন্যান্য নদী ও খাল-বিলের পানি বেড়েই চলেছে। এতে চরাঞ্চল ও নিম্ন আঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসকল এলাকার হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমির পাট, তিল, কাউন, বাদাম, শাক-সবজিসহ উঠতি ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

চৌহালীর খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে এক সপ্তাহ আগে মুহূর্তের মধ্যে ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে বহু বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভাঙন এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধের কাজ দ্রুত করা হোক। নদীতে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। দ্রুত ভাঙন বন্ধ না হলে বিলীন হয়ে যাবে বিশাল এলাকা।


এদিকে, কাজিপুরের তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ বলেন, যমুনায় যেভাবে পানি দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের মাঠগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষ রয়েছে বন্যার আতঙ্কে। চরগুলোতে পানি উঠায় গবাদী পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে তারা।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া মুন্সী জানান, গত চারদিনেই চর বয়ড়া, বর্ণি, দোরতা, সয়াশাখা ও কাটাঙ্গা চরের নিচু জমিগুলো প্লাবিত হয়েছে। এখন মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িতে পানি উঠতে পারে।


সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এভাবে পানি বাড়লে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার কাজীপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া ভাঙন রোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও ৯৬ হাজার জিও ব্যাগ আমাদের হাতে আসবে। আসা মাত্রই ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুতই ফেলা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে ভাঙনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৪১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুন ২০২২

Alokito Bogura। Online Newspaper |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

অস্থায়ী অফিস:

তালুকদার শপিং সেন্টার (৩য় তলা),

নবাববাড়ি রোড, বগুড়া-৫৮০০।

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

মুঠোফোন: ০১৭ ৫০ ৯১ ১৮ ৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!