মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

‘‘পেটে ভাত নেই, পকেটে টাকা নেই; জরিমানা করলে করুক’’

এস এম দৌলত, স্টাফ রিপোর্টার   বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১
180 বার পঠিত
‘‘পেটে ভাত নেই, পকেটে টাকা নেই; জরিমানা করলে করুক’’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় বগুড়াসহ সারাদেশে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। জেলায় লকডাউনের শুরুর দিকে কিছুটা ঢিলেঢালা পরিস্থিতি দেখা গেলেও ক্রমশই কড়াকড়ি দেখা গেছে লকডাউন বাস্তবায়নে। প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে।

তবে লকডাউন বাস্তবায়নে যত প্রশাসনিক তৎপরতা ততটাই খেটে খাওয়া মানুষদের প্রতি উদাসীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লাগাতার লকডাউনে নাভিশ্বাস উঠেছে ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ মানুষদের। এই কর্মহীন মানুষদের জন্য এখনও সরকারের কোন বরাদ্দ আসেনি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ায় অনেকটা ঢিলেঢালার মতো পালন হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ।

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সীমিত পরিসরে সড়কে চলাফেরা করছে রিকশা ও অটোরিকশা। জরুরি সেবা ছাড়াও কিছু প্রাইভেটকার চোখে পড়েছে। ফুটপাতে মানুষের আনাগোনাও অনেকটা বেড়ে গেছে। তবে দিনমজুরদের কাজ বন্ধ রয়েছে।


অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান-পাট খোলা রয়েছে। অনেক এলাকার গলির ভেতরে ভ্যানের মধ্যে ফল, সবজিসহ নানা পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব ভাসমান বাজার সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি বছরের প্রথম লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সেই সাতদিনের লকডাউনে জনগণের উদাসীনতা দেখেই ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপরে আবারো লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

এদিকে লকডাউনের সময় যত বাড়ানো হচ্ছে ততই নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের চোখে বাসা বাঁধছে দুঃস্বপ্ন। কেমন কাটবে লকডাউনের দিনগুলো, অজানা ভয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তারাও বাজার করে রাখছেন। সামান্য টাকা হাতে রয়েছে তাদের। তা ফুরিয়ে গেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। সবকিছু বন্ধ থাকায় হাতে কোনো কাজ কর্মও নেই তাদের।


বগুড়া শহরের অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মামুন। কয়েকদিন বাড়িতে বসে থেকে টাকা-পয়সা ফুরিয়ে গেছে তার। আজ বৃহস্পতিবার গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। তিনি আলোকিত বগুড়া‘কে বলেন, ‘পেটে ভাত নেই, পকেটে টাকা নেই; জরিমানা করলে করুক। এভাবে বাড়িতে বসে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। আজ গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। যা করবে করুক। এসব (লকডাউন) মেনে কী লাভ, কেউ তো এসে খাবার দিচ্ছে না আমাদের।’

বগুড়া শহরের রিকশা চালক মোমিন মিয়া কথা হয় তার সঙ্গে তিনি আলোকিত বগুড়া‘কে বলেন, ‘‘শহরের বাহিরে টুকটাক রিকশা-চালানো যাচ্ছে। মাঝে মাঝে পুলিশ বাধা দেয়। অনেকটা লুকিয়ে চালাতে হচ্ছে। ৬জন মানুষের সংসার আমার। আমার আয়ের ওপরই সংসার চলে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে ১১০টাকা। হাতে বেশি সময়ও নেই। বাড়িতে বাজার করে দিতে হবে। কী হবে জানি না। রাস্তায় তেমন লোকজনও নেই।’’

বগুড়ার শহরের কাঁচাবাজারগুলোতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভীড় দেখা গেছে, শহরের খান্দার বাজার, জাহাঙ্গীরাবাদ ফুলতলা বাজার, বনানী বাজারসহ অন্যান্য বাজারে ক্রেতাদের ভীড় জমাতে দেখা গেছে।

শহরের ফুলতলা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আহসান হাবীবের সঙ্গে কথা হলে তিনি আলোকিত বগুড়া‘কে বলেন, ‘লকডাউনের সময় সীমা বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। একারণে সবকিছুই একটু বেশি করে কিনে রাখছি। এছাড়াও এই রমজান মাসে বিক্রেতারা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করেন। সবমিলিয়ে ভোগান্তি থেকে বাঁচতে সামর্থ্য অনুযায়ী বাজার করে রাখছি।’

কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, লকডাউনের সময় তৃতীয় দফায় বাড়ানোর কারণে বাজারে ক্রেতাদের ভীড় বেড়ে গেছে। অনেকেই নিত্যপণ্য মজুদ রাখতে বেশি বেশি করে বাজার করছেন। কিন্তু বাজারে সবকিছুর দাম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

বগুড়া বনানী এলাকার বাসিন্দা আশিক মিয়া। তিনি রঙমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালান। গত বছরের লকডাউনের সময় অনেক কষ্টে দিন কেটেছে তার। এখনো সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এরমধ্যে আবারো লকডাউনের ঘোষণা। তিনি এবারো রয়েছেন অর্থনৈতিক সংকটে।

আশিক বলেন, ‘আমার রোজগারের অর্থ দিয়েই সংসার চলে। কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলে সংসার চলা মুশকিল হয়ে যায়। ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে। এখন হাতে একদমই টাকা নাই। বাড়ির বাজার শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে কাজও বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। গতবছর কিছু সাহায্যে সহযোগিতা পেয়েছিলাম। এবার কী হবে জানিনা। আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে ধার-দেনাও আর পাওয়া যায় না। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।’

এদিকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা শাখা এবং শ্রমিকফ্রন্ট ও ছাত্রফ্রন্টের উদ্যোগে একাধিকবার মানববন্ধন করে কর্মহীন মানুষদের অনুদান প্রদানের দাবি জানিয়েছে। দাবি গুলো তুলে ধরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box

Posted ১১:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০ ৯১১৮৪৫, ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!