বৃহস্পতিবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

পাবনার বেড়ায় আবারও যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু, হুমকির মুখে বাঁধ

রাউজ আলী, পাবনা প্রতিনিধি   মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১
26 ভিউ
পাবনার বেড়ায় আবারও যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু, হুমকির মুখে বাঁধ

পাবনার বেড়ায় যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন নতুন উদ্যমে রেজাউল করিম বকুল নামে এক ব্যবসায়ী। রেজাউল করিম রূপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। অবৈধ এ কাজের জন্য এর আগেও তার নামে মামলা হয়েছে। তবুও থেমে নেই রাজনৈতিক পরিচয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন।

মিলাদ দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে এখন আলোচিত আ’লীগ নেতা রেজাউল করিম। মিলাদ দিয়ে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন উদ্বোধন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বেড়া উপজেলা রূপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও খানপুরা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম বকুল সম্প্রতি প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে ‘বলগেট’ ড্রেজার মেশিন ক্রয় করেন। শনিবার বিকেলে মিলাদের মাধ্যমে কর্মীদের নিয়ে এই বলগেট মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর সূত্র ধরে সোমবার সকালে আলোকিত বগুড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন শনিবার যমুনা নদী পাড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কেনা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করা উপলক্ষে তিনি এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন।

স্থানীয় একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেজাউল করিম বকুল দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে যমুনা ও পদ্মা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার কাশিনাথপুরে ৫ তলা বিল্ডিংসহ নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে।

সূত্রে জানায়, গত বছরের ৩ অক্টোবর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে নগরবাড়ীঘাট নৌ-পুলিশ রেজাউল করিম বকুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপরও থেমে নেই তার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা। নদী পাড়ের কেউই তার এই অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করা সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মামলার হুমকি দেয়া হয়।

এ দিকে বালু উত্তোলনের ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালাসহ নানা স্থাপনা ভাঙনের আশঙ্কা করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

এ বিষয়ে রূপপুর ইউপি চেলারম্যান আবুল হাসেম উজ্জ্বল বলেন, রেজাউল করিম বকুল বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে রূপপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অথচ আমার ইউনিয়নে এখনো কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। তিনি আঃ লীগের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এতে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

অভিযুক্ত রেজাউল করিম বকুলের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার স্ত্রী ফোন ধরে বলেন, বকুল সাহেবের জ্বর হয়েছে। কথা বলা যাবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর যেকোনো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন প্রতিরক্ষা বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বালু উত্তোলন করা হলে চার পাশের এলাকা ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, মিলাদ দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করা নজিরবিহীন ঘটনা। এ সংক্রান্ত আরো কিছু অভিযোগ আমি পেয়েছি। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Facebook Comments
advertisement

Posted ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য:

এ্যাড. মিনহাদুজ্জামান লিটন

আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

মোঃ জুলফিকার রহমান (শান্ত)

চেয়ারম্যান, পাকুল্লা ইউপি, সোনাতলা, বগুড়া।

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম. এ রাশেদ

মুঠোফোন: ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

error: Content is protected !!