মঙ্গলবার ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

নদ-নদীতে পানিতে হচ্ছে টুইটম্বুর; হাট-বাজারে ধুম পড়েছে ফাঁদ বিক্রির

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   মঙ্গলবার, ০৪ জুলাই ২০২৩
177 বার পঠিত
নদ-নদীতে পানিতে হচ্ছে টুইটম্বুর; হাট-বাজারে ধুম পড়েছে ফাঁদ বিক্রির

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা, করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়ালসহ অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার খাল-বিল ও চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে নতুন পানিতে টুইটম্বুর হচ্ছে। নতুন এই পানিতে ছুটে আসছে নানা প্রজাতির মাছ। পানি বৃদ্ধির এই মৌসুমে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাছ ধরার ফাঁদ বিক্রিও।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার কাজিপুরের সোনামুখী, শুভগাছা, গান্দাইল, রায়গঞ্জের নিমগাছী, হাট-পাঙ্গাসী, হাসিল, তাড়াশের নওগাঁ, গুল্টা, মহিষলুটি, উল্লাপাড়ার উধুনিয়া, উনুখা, কয়ড়া, কুচিয়ামারা, কৃষকগঞ্জ, গয়হাট্টা, চৌবিলা, ধরইল, বড়হর, কয়ড়া, সলঙ্গা ও বলিয়া বাজার, শাহজাদপুরের তালগাছি, প্রতাবগঞ্জ, জামিরতা, বেলতৈল, কাদাইবাদলা, খুকনী, রূপসী, হাট-পাচিল, পোরজনা, বেলকুচিতে সোহাগপুর, সমেশপুর, কান্দাপাড়া, দৌলতপুর, মুকুন্দগাঁতী ও তামাই, কামারখন্দের কাটাখালী, কালীবাড়ী, গাড়াবাড়ী, চৌবাড়ী, জামতৈল, ঝাঐল, পাইকশা ও নান্দিনা, ভদ্রঘাট, রায়দৌতপুর, ও সদর উপজেলার রতনকান্দি, কালিয়াহরিপুর, বহুলী, শিয়ালকোল, ছোনগাছা, বনবাড়িয়াসহ গ্রামঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি শুরু হয়েছে মাছ ধরার দেশি বিভিন্ন সরঞ্জাম। এসব হাটে পাইকারি ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয় করা হয় মাছ ধরার ফাঁদগুলো।


ক্রেতাদের সুত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে খাল-বিলসহ বাড়ির আশেপাশের ছোট-বড় জলাশয়ে নতুন পানিতে ভোরে গেছে। একই সঙ্গে নিম্নাঞ্চলেও পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এসময় নদীসহ বিভিন্ন পুকুরের মাছ ছুটে প্রবেশ করছে খাল-বিলসহ জলাশয়ে। মাছ ধরার জন্য বাঁশের তৈরি এসব চাইঁ, খলসুনি বা ধুন্দী দিয়ে (মাছ ধরার ফাঁদ) সহজেই মাছ ধরা যায়। বছরের এই সময়টা মাছ ধরার এই ফাঁদ বেশি কেনা-বেচা হয়। এই মৌসুমে কেনা একেকটি বাঁশের মাছ ধরার ফাঁদ প্রায় এক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।


চলনবিল এলাকার মাছ শিকারী আবুল, শাহিন, রেজাউল ও বকুল জানান, বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন স্থানের ডোবা ও খাল-বিল পানিতে ভোরে গেছে। এই সময় তেমন কোন কাজ থাকে না। জীবন-জীবিকার জন্য কাজ কর্ম না থাকায় এ সময় বেছে নেয়া হয় অন্য পেশা। মাছ ধরার এক প্রকার যন্ত্র, চাইঁ, খলসুনি ও ধুন্দী এর চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় হাট থেকে এই যন্ত্রগুলো ক্রয় করে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার শুরু করেছি।

উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের শরীফ আহমেদ জানান, প্রথমে বাঁশ কাটা, শলাকা তৈরি। পরে সেগুলো শুকিয়ে নেয়া হয় হালকা রোদে। পচানো তালের ডাগুরের আঁশ দিয়ে খিল বান দেয়া হয়। এসব কাজে গৃহবধূ থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সহায়তা করে থাকে। এই ফাঁদ বোনার কাজে সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। এ ফাঁদ দিয়ে চিংড়ি, পুঁটি, খৈলশা, গুচি, ট্যাংরা মাছ শিকার করা হয়। এতে খাবারের জন্য বাজার থেকে মাছ কিনতে হয় না অনেকেরই।


রায়গঞ্জের সোনাখাড়া গ্রামের ফাঁদ তৈরির কারিগর শ্রী কমল জানান, একটি বাঁশের দাম ২৫০-৩০০ টাকা। একটি বাঁশ থেকে কমপক্ষে ৬-৭টা খৈলশুন হয়। একটি তৈরি করতে দুই জনের চার দিনের মতো সময় লাগে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। প্রতিটি খৈলশুন বড় টি ৪০০-৪৫০ টাকা, ছোটটি ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

করিম উদ্দিন বলেন, একটা খৈলশুনী তৈরিতে মজুরি ধরে ৩৫০ টাকা পড়ে, বিক্রি হয় ৪০০-৪৫০ টাকায়, ধুন্দি খরচ ১৮০, বিক্রি হয় ২৫০, বৃত্তি ৩৫০ টাকা খরচ, বিক্রি ৪০০-৪৫০ আর বড় খাদুন ৩০০ টাকা খরচ, বিক্রি হয় ৪০০-৪৫০ টাকা।

সলেমান হোসেন বলেন, আমাদের মজুরি ধরলে খুব লাভ হয় না। তবে এটা আমাদের পেশা তাই পরিবারের বউ ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তৈরা করা হয়।

সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটে মাছ ধরার ফাঁদ বিক্রি করতে আসা কামাল উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে এ হাটে বিক্রি করতে আসি। এসময় চারিদিক পানিতে ডুবে গেলে কৃষি কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রি করে সংসার চালান।

তাড়াশের নওগাঁ গ্রামের ছালাম ব্যাপারী জানান, তার গ্রামের প্রায় একশত পরিবার মাছ ধরার যন্ত্র তৈরির কাজে জড়িত। আকারভেদে প্রতি জোড়া খলসুনির দাম ৫০০-৬০০ টাকা। কখনও কখনও এর চেয়েও বেশি। আকারের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয় দাম। এক জোড়া খলসুনি তৈরিতে সময় লেগে যায় প্রায় দু’তিন দিন। উপকরণ বাবদ খরচ হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

নওগাঁ হাটের ইজারাদার আকবার আলী বলেন, বর্ষার সময় নদীতে, খাল-বিলে পানিতে ভরপুর থাকে। সেই পানিতে দেশী মাছ ধরার জন্য সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। এই সময় নওগা হাটে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার সরঞ্জাম কেনাবেচা হচ্ছে। এই হাট থেকে জেলার মৎস্যজীবিসহ বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক মৎসজীবিরা ক্রয় কের নিয়ে যাচ্ছেন। এতে এসব সরঞ্জাম বিক্রি করে কারিগররা যেমন লাভবান হচ্ছে। তেমনি যারা ক্রয় করে যাচ্ছেন তারাও মাছ ধরে নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারবেন।

Facebook Comments Box

Posted ২:৫১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ জুলাই ২০২৩

Alokito Bogura || Online Newspaper |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

উপদেষ্টা:
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক:
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ
বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ
সহ-বার্তা সম্পাদক: মোঃ সাজু মিয়া

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন যোগাযোগ:
+৮৮০ ৯৬ ৯৬ ৯১ ১৮ ৪৫
হোয়াটসঅ্যাপ ➤০১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!