শনিবার ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ঘর নেই, প্রতিবন্ধী ছেলে ও মাকে নিয়ে পলিথিনের ঘরে থাকে বিধবা আনেরা; জুটেনি সরকারি ঘর

আলোকিত বগুড়া ডেস্ক   শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩
131 বার পঠিত
ঘর নেই, প্রতিবন্ধী ছেলে ও মাকে নিয়ে পলিথিনের ঘরে থাকে বিধবা আনেরা; জুটেনি সরকারি ঘর

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শালিখা গ্রামে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে অসহায় বিধবা আনেরা বেগমের বসবাস। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগীতা পেলেও ভাগ্যর উন্নয়ন ঘটেনি। অনাহারে দিন কাটে অসহায় আনেরা বেওয়ার। স্থানীয় বিত্তবান ও ইউপি সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অনেকটাই ক্লান্ত এ বিধবা আনেরা বেওয়া।

উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের শালিখা গ্রামের মৃত্যু বাকীর স্ত্রী আনেরা বেওয়া। ২২-২৩ বছর পূর্বে ৩ মাসের সন্তান রেখে স্বামীর মৃত্যু হয়। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে আনেরা বেওয়া তার এমন বিপদে এগিয়ে আসেননি এখন পর্যন্ত কেহ। এখন পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেওয়া উপহার মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই একটা ঘর।


মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর বিধবা আনেরা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো রকমের পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। যেদিন রাতে বৃষ্টি আসে সেদিন বিছানার এক কোণে পলিথিন মাথায় দিয়ে বসে রাত কাটান তিনি। বৃষ্টির পানিতে সব কিছু ভিজে যায়। শীতের রাতে বিল ধারে রাতে হু হু বাতাস আসে সেই ঘরে। সরকারি কোন কম্বল জোটেনি তার। বর্তমানে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ছেলে ও মাকে নিয়ে আনেরা বেগম।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনেরা বেওয়া বলেন, আমার খোঁজখবর নিয়া কি হবে, আমি ওনেক দুঃখে আছি। ২৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের বাড়ি আশ্রয় নেই। কিছুদিন পর ভাই বাড়ি থেকে বের করে দেয়। ১৭ বছর ধরে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়ি বাড়ি ঘুমাতে হয়। শহর থেকে কাঁথা সেলাইয়ের সুতা কিনে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করে ছেলের ঔষধ আর জীবন বাঁচাতে দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করি। এখন আর সুতা কেউ কিনতে চায়না। কোন কোন দিন বিক্রি না হলে না খেয়ে থাকতে হয়। ৩ বছর আগে টিংটিং বিলের মধ্যে দুই শতক জমি ১ হাজার ২ হাজার করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করি। এখনো ১০ হাজার টাকা বাকি আছে। সেখানে আমি নিজেই পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তুলে আছি। গত বছরে চেয়ারম্যান কাছে গিয়ে বলছিলাম আমার একটা ঘরের নাম দিতে।


ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন , বিষয়টি আমি জানি, আমার পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে যে সুবিধা সেটা আমি তাকে দিয়েছি। ইতিমধ্যেই একটি টিউবওয়েল এর ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সরকারি ভাবে ঘরের লিষ্ট হয়েছিলো তাতেও নাম দিয়েছিলাম কেন যে পেল না আমি জানিনা। তবে আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাদের সাথে আবারো ঘরের জন্য কথা বলবো।

বিধবা আনেরা বেওয়া বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাবেয়া আসফার সায়মা বলেন, যদি খুবই অসহায় হয় আমার বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দিতে বলেন। দরিদ্র ফান্ড বা সমাজ সেবা থেকে তাকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।


আব্দুর রাজ্জাক/আ/ব//

Facebook Comments Box

Posted ১০:২১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩

Alokito Bogura || Online Newspaper |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

উপদেষ্টা:
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক:
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ
বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ
সহ-বার্তা সম্পাদক: মোঃ সাজু মিয়া

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন যোগাযোগ:
+৮৮০ ৯৬ ৯৬ ৯১ ১৮ ৪৫
হোয়াটসঅ্যাপ ➤০১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!