শুক্রবার ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১
83 বার পঠিত
বগুড়ায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে জিডিপিতে অন্তর্ভূক্ত করা এবং নারী নির্যাতন বন্ধ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্য বিবাহ রোধ, করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া নারীদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবিতে বগুড়ার সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ আজ ০১ জুন ২০২১ বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলার উদ্যোগে গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে জিডিপিতে অন্তর্ভূক্ত করা এবং নারী নির্যাতন বন্ধ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্য বিবাহ রোধ, করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া নারীদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবিতে সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ।


মানববন্ধন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা আহবায়ক দিলরুবা নূরী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা আহবায়ক অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা নেতা রাধা রানী বর্মন, রেনু বালা, আকলিমা বেগম, তাহমিনা আক্তার অ্যানি প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম সংগঠক নিয়তি সরকার নিতু।

সমাবেশের সভাপতি দিলরুবা নূরী বলেন, আগামী ৩ জুন সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে । বাজেটের মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয় সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীও প্রতিফলিত হয়। নারীর শ্রমের স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাজেট নিশ্চয় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। করোনা মহামারীর মধ্যে গত ১৪ মাসে আমাদের বেশকিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। আগামী অর্থ বছরও হয়তো আমাদের করোনাকে সাথে নিয়েই কাটাতে হবে। বাজেট সেসব বিবেচনাকে মাথায় রেখেই প্রণীত হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। গত বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা ভীষণ রকম বেড়ে গেছে। স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। এ সময়কালে বাল্য বিবাহ খুব বেড়ে গেছে। বাল্য বিবাহের দিক দিয়েও বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।


এ থেকে বুঝা যায়, নারীর জীবনে পারিবারিক নির্যাতন এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার নিয়েছে। গৃহশ্রমিক, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্র থেকে ছাটাই বা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন নারীরা। এই সকল সংকট উত্তরণে নগদ সহায়তাসহ বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। সাথে সাথে গৃহস্থালী কাজের আর্থিক মূল্য জিডিপিতে অন্তর্ভূক্ত করে নারীর শ্রমের মূল্যায়ন করতে হবে।”

অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, “গৃহস্থালী কাজের মাধ্যমে নারীরা পরিবারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গৃহে সবার জন্য খাবার তৈরি, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, শিশুদের দেখা-শোনা করা, বৃদ্ধদের সেবা প্রদান, শিশুদের পাঠদান, বিদ্যালয়ে আনা-নেয়াসহ গৃহ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ নারীরা করে থাকেন। যে সকল পরিবার কৃষিকাজের সাথে যুক্ত সেখানে নারীরা উল্লেখিত কাজের বাইরে কৃষিকাজ করেন, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল দেখা-শোনা করেন। এমনকি যারা ঘরের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন তারাও গৃহের অধিকাংশ কাজ করে থাকেন। গৃহে নারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৬ ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ ধরনের কাজ করে থাকেন। সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ)-এর “জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের অবদান নিরূপণ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত” শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের গৃহস্থালী কাজের আর্থিক মূল্য ১১লক্ষ কোটি টাকারও উপরে। এর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করে নারীর মর্যাদা দেয়া জরুরী।”


রাধা রানী বর্মন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও নারীর গৃহস্থালির কাজের আর্থিক মূল্য হিসাব করার জন্য রাষ্ট্রীয় কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। গৃহিনী নারীদের বা গৃহস্থালির কাজের অবদানের মূল্যায়ন না হওয়ায় নারীরা তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হন এবং অসহায় বোধ করেন। নির্যাতন-বৈষম্যের শিকার হন। আমরা মনে করি, নারীর শ্রমের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী ও নারীদের সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনে রাষ্ট্র বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। রাষ্ট্র নারীদের শ্রমের মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে তার কাজের স্বীকৃতি দিতে পারে। সাথে সাথে একটি থোক বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখতে পারে গৃহিনী নারীদের জন্য। স্বামীর সংসারে নির্যাতিত নারী বা বিধবা অসহায় নারীদেরকে রাষ্ট্রীয় ভাবে পুনর্বাসনের জন্য এই তহবিল বরাদ্দ হবে।”

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী নির্যতন বন্ধে ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া সময়ের দাবি। করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া নারীদের পুনর্বাসন করতে, সকল নগর ও পৌর এলাকায় সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করতে, শহরে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক গণপরিবহণের ব্যবস্থা করতে, নারীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করতে, প্রতি উপজেলায় সরকারিভাবে নারী হোস্টেল নির্মাণ করতে, প্রত্যেক জেলা সদর হাসপাতালে মাতৃসদন কেন্দ্র নির্মাণ করতে, নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসার জন্য ওসিসি চালু করতে বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

Facebook Comments Box

Posted ৪:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০১ জুন ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

“ঈদ মোবারক”
“ঈদ মোবারক”

(458 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭৫০ ৯১১৮৪৫, ০১৬১০ ৯১১৮৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!