সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

করোনাকালীন সময়ে ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কমেছে ১০শতাংশেরও বেশি

জাকির হোসেন, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
53 বার পঠিত
করোনাকালীন সময়ে ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কমেছে ১০শতাংশেরও বেশি

রাজারহাটে করোনা কালীন সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন পর চালু হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ১০শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলায় ১১টি কলেজ, ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২৯টি মাদরাসা রয়েছে। কোভিড-১৯ জনিত কারনে দীর্ঘ ১৮মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকে। ফলে এসময়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পরেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ। এঅবস্থায় অনেক অভিভাবক মেয়েদের বিবাহ দেয়ার বিষয়ে ঝুঁকে পরেন। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সুযোগ বুঝে বিয়েও দিয়েছেন অনেকে।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি স্কুল ও মাদরাসার ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণীর এক বা একাধিক শিক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছেন।


উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫জনের অধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হয়েছে। এরমধ্যে ১০ম শ্রেনীর মিনি আক্তার,লিজা তাবাস্সুম,তমা আক্তার (এসএসসি পরিক্ষার্থী),৯ম শ্রেনীর মুন্নী,আঁখি,মাহফুজা এবং জেমি আক্তারের নাম জানা গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়টি থেকে ১০৯জন শিক্ষার্থী জেএসসি পাস করলেও ৪জন শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের সিঙ্গারডাবরী হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র ১০ম শ্রেণীতেই ১০জন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্যান্য শ্রেণীর কত শিক্ষার্থীর বিয়ের শিকার হয়েছেন এর সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বাল্য বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ।


ছিনাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাঁঙ্গা রানী লক্ষিè প্রিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে করোনা কালীন সময়ে ৩০জনেরও বেশি ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। এরমধ্যে ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নিয়তি রানী, নমিতা রানী, অঞ্জনা সরকার, তামান্না আক্তার, শারমিন আক্তার, আতিকা আক্তার, আখি আক্তার, আইজুন্নাহার, লতা রানী, অনামিকা সরকার, তাহিদা আক্তার ও সুমি আক্তার, ৯ম শ্রেণীর শামসুন্নাহার হাবিবা বেগম, দিপ্তী রানী, স্বপ্না রানী, আয়শা আক্তার, হালিমা বেগম, তাছলিমা বেগম, ইবনে আরা, ৮ম শ্রেণীর মর্জিনা আক্তার রুবিনা আক্তার এবং ৭ম শ্রেণীর উম্মে কুলছুমের নাম পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ের জেএসসিতে ১৩৭জন পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে ১২২জন রেজিষ্ট্রেশন করেছে।

একই ইউনিয়নের বৈদ্যের বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭জন জেএসসি পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেছে ৪২জন শিক্ষার্থী। এই বিদ্যালয়েও ১৫জনের অধিক শিক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ৭ম শ্রেণীর রোজিফা,৮ম শ্রেণীর বৃষ্টি মোহন্ত,১০ম শ্রেনীর সাদিয়া,শান্তনা,মাসুদা,লাভলি,হাওয়া,তানিয়া,মিম খাতুন,জান্নাতি ও আঁখি মনি সহ ১১জনের নাম জানা গেছে।


একই ভাবে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকের হাট কারামতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০জনেরও অধিক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। ওই বিদ্যালয়ে ১২১জন জেএসসি পাস শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০জন শিক্ষার্থী ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেনি।

উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পাঁঙ্গা রানী লক্ষিè প্রিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে করোনা কালীন সময়ে ৩০জনেরও বেশি ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। ওই বিদ্যালয়ের জেএসসিতে ১৩৭জন পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে ১২২জন রেজিষ্ট্রেশন করেছে। একই ইউনিয়নের বৈদ্যের বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৭জন জেএসসি পাস করলেও ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন করেছে ৪২জন শিক্ষার্থী। উক্ত বিদ্যালয়ে ১৫জনের অধিক শিক্ষার্থী বাল্য বিয়ের শিকার হয়েছেন। একই অবস্থা উপজেলার প্রায় সকল হাইস্কুল ও মাদরাসায়।

উপজেলার একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয়েরই কমবেশি শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজারহাট উপজেলার ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৭শতাধিক শিক্ষার্থীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে । এছাড়া দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলেও গড়ে ১০শতাংশেরও অধিক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রাজারহাট কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন সরকার জানান,তার কলেজের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ৪০জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রামের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী সংকটে ভূগতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা করেন।

পাঁঙ্গা রানী লক্ষিè প্রিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তুহিন পাটোয়ারী বলেন,আমার প্রতিষ্ঠানের ৩০জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ১০শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামন সরকার বলেন,শিক্ষার্থীদের বাল্য বিয়ে বা ৯ম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশনের তথ্য সংরক্ষনের বিষয়ে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

Alokito Bogura। সত্য প্রকাশই আমাদের অঙ্গীকার |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

“ঈদ মোবারক”
“ঈদ মোবারক”

(498 বার পঠিত)

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

সম্পাদক ও প্রকাশক:

এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: এম.এ রাশেদ

বার্তাকক্ষ যোগাযোগ:

০১৭ ৫০ ৯১ ১৮ ৪৫

ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
''আলোকিত বগুড়া'' সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক বগুড়া থেকে প্রকাশিত।
error: Content is protected !!